১৫৪ রান তাড়া করতে নামা ওমানের ব্যাটাররা যখন স্বচ্ছন্দে এগোচ্ছেন, বাংলাদেশি সাংবাদিকে পূর্ণ আল আমেরাত স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সের পরিবেশ দেখে আইসিসির মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা কালাম ড্যাভিস বেশ অবাকই হলেন! বললেন, ‘প্রেসবক্স এখন খুব ঠান্ডা!’
গত চার-পাঁচ দিনে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সামলানোর অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো কালামের অমন মন্তব্য। তৃতীয় উইকেটে যতীন্দর সিং–জিশান মাকসুদের জুটিটা বেশ জমে উঠেছে, ওমানের দরকার ৬৬ বলে ৮৮ রান। শেষ পর্যন্ত ওমানে ‘মান’ হারায়নি বাংলাদেশ, ২৬ রানের জয়ে বেঁচে রইল সুপার টুয়েলভের আশা।
অবশ্য ম্যাচটা মোটেও সহজ ছিল না বাংলাদেশের কাছে। আগের ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে দুঃসহ চাপ ঘিরে ধরেছিল পুরো দলকে। সেই চাপ থেকেই কিনা গতকাল ওমানের বিপক্ষেও ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি বাংলাদেশের ওপেনাররা। ওপেনিং জুটি ভেঙেছে ১১ রানে। ৪.৩ ওভারে ২১ রান তুলতেই নেই ২ উইকেট। গতকালকের ম্যাচেও পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ, প্রথম ৬ ওভারে তুলতে পেরেছে ২ উইকেটে ২৯ রান। চাপে পড়ে একাদশে ফেরা মোহাম্মদ নাঈম যেন কিছুতেই স্বচ্ছন্দ হতে পারছিলেন না, স্নায়ুচাপে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন দুবার। ওমানি ফিল্ডারদের পিচ্ছিল হাতের সৌজন্যে কোনোভাবে রক্ষা!
এ সময় দলকে পথ দেখিয়েছেন সাকিব আল হাসান। উইকেটে এসেই ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার। যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন স্ট্রাইকরেট ১৪০-এর ওপরে রেখেছেন। নাঈমকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে গড়েছেন মহাগুরুত্বপূর্ণ ৫৩ বলে ৮০ রানের জুটিটা। ফেরার আগে সাকিব খেলে গেছেন ২৯ বলে ৪২ রানের কার্যকরী এক ইনিংস। সাকিব ফিফটি না পেলেও নাঈমের এ আফসোস নেই। বাঁহাতি ওপেনার ৫০ বলে করেছেন ৬৪ রান। সাকিব–নাঈমের দারুণ ব্যাটিংয়ের পরও বাংলাদেশ স্কোরটা ১৬০ পার করতে পারেনি ডেথ ওভারে প্রত্যাশিত রান না ওঠায়। অলআউট হওয়ার আগে শেষ ২৪ বলে ৩৩ রান যোগ করতে পেরেছে তারা।
১৫৪ রান তাড়া করতে নেমে ওমান যেভাবে এগোচ্ছিল, ১০ ওভার পর্যন্ত বলা কঠিন ছিল ম্যাচটা জিততে যাচ্ছে বাংলাদেশ! ৬০ বলে দরকার ৮৪ রান—স্বাগতিক দর্শকেরা, যাঁরা আবার বেশির ভাগই ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দিতে চিৎকার করছেন, ‘জিতেগা ভাই জিতেগা, ওমান জিতেগা’—বাংলাদেশ তখন কী যে চাপে।
ম্যাচ বাংলাদেশের দিকে ঘুরতে শুরু করে মেহেদী হাসানের করা ১২তম ও সাকিবের করা ১৩তম ওভারে। মেহেদীর বলে মোস্তাফিজের দুর্দান্ত এক ক্যাচ হয়ে ১২ রান করা জিশান মাকসুদ ফেরার পর সাকিব ফিরিয়েছেন ওমানের সর্বোচ্চ ৪০ রান করা যতীন্দরকে। এরপর ওমান আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। সাকিব-মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওমান থেমেছে ৯ উইকেটে ১২৭ রান করে। ফিজ পেয়েছেন ৩৬ রানে ৪ উইকেট আর সাকিব ২৮ রানে ৩ উইকেট।
সুপার টুয়েলভসে যেতে হলে আগামীকাল ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষেও জিততে হবে বাংলাদেশকে। পাশাপাশি চোখ রাখতে হবে একই ভেন্যুতে রাতে হওয়া স্কটল্যান্ড-ওমান ম্যাচে। ওমানের বিপক্ষে জিতে আশা বেঁচে থাকল বটে, তবে হিসাবটা এখনো সহজ নয় মাহমুদউল্লাহদের সামনে।
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৩
ওমান: ২০ ওভারে ১২৭/৯
ফল: বাংলাদেশ ২৬ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: সাকিব আল হাসান