নরভেনিয়ায় মাটির নিচে বাস করত বক্সট্রোল নামে একধরনের অদ্ভুত প্রাণী। আমরা যেমন জামাকাপড় দিয়ে শরীর ঢেকে রাখি, ঠিক তেমনি এসব প্রাণী কাগজের বাক্স দিয়ে নিজেদের শরীর ঢেকে রাখে। বিপদ দেখলেই বাক্সের ভেতর নিজেকে লুকিয়ে রাখে। বাইরে থেকে দেখে মনে হবে যেন শুধু একটি বাক্স পড়ে আছে। একসময় গুজব ছড়িয়ে পড়ে বক্সট্রোলরা একটি শিশুকে অপহরণ করেছে।
কীটপতঙ্গ নির্মূলকারী আর্কিবল্ড স্ন্যাচার শহরের নেতা লর্ড পোর্টলি-রিন্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। বক্সট্রোলদের নির্মূল করতে পারলে স্ন্যাচার পনির খেতে পারবেন ইচ্ছেমতো।
বাস্তবে বক্সট্রোলরা খুবই শান্তশিষ্ট প্রাণী। কারও কোনো ক্ষতি করে না। তারা মানুষের ফেলে দেওয়া জিনিস সংগ্রহ করে মজার মজার জিনিস বানায়। একটি অনাথ শিশু থাকে তাদের সঙ্গে। ফিস নামের একটি বক্সট্রোল শিশুটিকে লালনপালন করতে থাকে। তাদের সবার মতো ফিস একটি বাক্স পরিয়ে দেয় শিশুটির গায়ে আর তার নাম দেয় এগস। নিজেকে তাদের একজন ভাবতে থাকে সে।
একবার একটি মেয়ের সঙ্গে দেখা হয় এগসের। মেয়েটি বলে, সে আসলে বক্সট্রোল নয়। সে আসলে মানুষ। এগস ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করে। কিন্তু বক্সট্রোলরাই তার মা-বাবা। এদিকে স্ন্যাচার পনিরের লোভে খুঁজে খুঁজে সব বক্সট্রোল ধরে নিয়ে যেতে থাকেন। এগস আর মেয়েটি সিদ্ধান্ত নেয় স্ন্যাচারদের বধ করে বক্সট্রোলদের রক্ষা করবে। এমনই এক গল্পের অসাধারণ সিনেমা ‘দ্য বক্সট্রোলস’। গ্রাহাম অ্যানাবেল ও অ্যান্টিন স্ট্যাচ্চির পরিচালনায় সিনেমাটি মুক্তি পায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লাইকা থেকে।