হোম > ছাপা সংস্করণ

নিরাপদ ফুটপাত কমাতে পারে ব্যয়ের খাত

মো. তায়্যিব উল ইসলাম সৌরভ

আমাদের এই নগরের বেশির ভাগ পরিবারই মধ্যবিত্ত ঘরানার। সমাজের অন্য সবার মতো তাদেরও লক্ষ্য জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। এসব পরিবারের কর্তাব্যক্তিদের সিংহভাগই সাধারণত পেশাজীবী, ফলে তাঁদের আয় শুধু সীমিতই নয়, নির্দিষ্টও বটে। আবার তাঁদের ব্যয়ের খাত নির্দিষ্ট হলেও প্রায়ই সামাজিকতা বা অন্য অনেক কারণে তা খাতের বাইরে চলে যায়। তার ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেল প্রায় ৫০ শতাংশ!

মধ্যবিত্তের আয় সীমিত হওয়ায় তাদের অনেক খরচের লাগাম শক্ত করে টেনে ধরা লাগে, বাদ দিতে হয় অনেক শখ-আহ্লাদ।

মধ্যবিত্ত শ্রেণির অর্থনৈতিক উন্নতির সবচেয়ে সরল উপায় হলো সঞ্চয়। তাই তাদের ব্যয় কমানো ছাড়া সঞ্চয় তথা উন্নয়নের অন্য পথ খোলা থাকে না। আর এই ঊর্ধ্বমুখী মূল্যের বাজারে ব্যয় কমানোর চিন্তা আসলে অলীক কল্পনার শামিল। ভোজ্য এবং জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি আর সঙ্গে ফি বছর ফুঁসতে থাকা বাড়িভাড়া, পানির বিল, গ্যাসের বিল, বিদ্যুতের বিল সামলে মধ্যবিত্তের সঞ্চয় বলতে গেলে ‘শিকেয় ওঠা’র দশা।

শিকেয় ওঠা ‘সঞ্চয়’কে নাগালের মধ্যে আনতে হলে ব্যয়ের লাগাম টানতে হবে!

ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ, বাত-ব্যথা, হাড় ক্ষয় ইত্যাদি সমস্যাও এখন ঘরে ঘরে। আর আমরা খরচটাও কমাতে চাইছি। দুইয়ে-দুইয়ে চার মেলালেই দেখা যাচ্ছে, এই সব সমস্যার সমাধান হতে পারে হেঁটে চলাফেরা করা। যাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল বা অন্য যেকোনো গন্তব্য হাঁটার দূরত্বে তারা হেঁটে যাবেন, তাতে শরীরও ভালো থাকবে আর মাসের শেষে কিছু টাকা জমেও যাবে, যেটা রিকশাভাড়া বা জ্বালানি খরচ হিসেবে ব্যয় হতো, যানজট কমবে আর দেশের জ্বালানিও বাঁচবে।

হিসাব এত সোজাও নয় আবার। আমরা যারা ঢাকার ফুটপাত ব্যবহার করি, তারা প্রায় সবাই ফুটপাতের পরিবেশ নিয়ে অসন্তুষ্ট; বিশেষ করে নারীরা। নানা রকম ঝুটঝামেলা সামলে তাঁদের ফুটপাত ব্যবহার করতে হয়। ফুটপাতে প্রায়ই তাঁরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হন। নারী পথচারীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকারের ঘটনা থেকে শুরু করে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে এই নগরে।

ফুটপাতে যে বাঘ-ভালুক থাকে তা নয়, তাই নিরাপদ করার কাজটাও খুব কঠিন হওয়ার কথা নয়। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাখতে পারে প্রশংসনীয় অবদান। ইতিমধ্যেই রাজধানীর ফুটপাতগুলো বেশ ভালোভাবে মেরামত করা হয়েছে, বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো আছে, যেন রাতে হাঁটাচলায় অসুবিধা না হয়। তবে ফুটপাতে বসে, দাঁড়িয়ে বা হাঁটতে থাকা লোকদের নোংরা দৃষ্টি আর অশ্লীল ভাষার ব্যবহার যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে ফুটপাত নিরাপদ হয়ে যাবে অনেকখানি। আমি নিশ্চিত, নারী পথচারীরা ছিনতাইকারীদের চেয়ে এই সব ভদ্রবেশী নোংরা দৃষ্টি আর দুর্গন্ধযুক্ত হিংস্র ভাষা ব্যবহারকারীদের বেশি বিপজ্জনক মনে করেন।

অনেকে ফুটপাতে বসে নেশা করে। সে ক্ষেত্রে বিপদের মাত্রাটা বেড়ে যায়, বিপদের আওতায় তখন পুরুষেরাও পড়ে যান। এই সমস্যাগুলো নিয়মিত পুলিশ টহল আর সিসি ক্যামেরার ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

ফুটপাত নিরাপদ থাকলে বেশির ভাগ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা হাঁটতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। তাঁরা ভাড়া ও সময় বাঁচাতে হাঁটতেন, সুস্থ থাকার জন্য হাঁটতেন। বাঁচিয়ে দিতে পারতেন একটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয়।

শুধু ফুটপাত ব্যবহার করে যে অর্থ আর সময় বেঁচে যেত, সেই ‘সঞ্চয়’ অর্থনীতির চাকা কতটুকু সচল করতে পারবে বা আদৌ পারে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই, বা থাকলেও আমার জানা নেই। তবু সাধারণ চিন্তা দিয়েই বলা যায়, যদি নগরের বাসিন্দারা কাছের দূরত্বে যেতে ফুটপাত ব্যবহার করেন আর এতে যদি সময় আর স্বাস্থ্য ভালো থাকে, তবে এর একটা দীর্ঘমেয়াদি ভালো প্রভাব অবশ্যই অর্থনীতিতে পড়বে। অনেক বড় স্কেলে না হলেও, কিছুটা হলেও পড়বে, শুধু ফুটপাতটা পথচারীবান্ধব করতে পারলেই, বিশ্বাস না হলে করেই দেখুন।

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন

রোজা রেখে সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে কি?

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস