ইসলামের দৃষ্টিতে শিক্ষকের মর্যাদা অপরিসীম। মহানবী (সা.) ছিলেন আদর্শ শিক্ষক। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘আমি শিক্ষক হিসেবেই প্রেরিত হয়েছি।’ তাঁর সঙ্গে সাহাবায়ে কেরামের আচরণ, শিষ্টাচার এমনকি প্রশ্ন করার ধরনেও শিক্ষকের মর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রমাণিত হয়। জ্ঞানার্জন সব মুসলমানের জন্য ফরজ অভিহিত করেছেন তিনি। সুতরাং বিদ্যার্জন ও বিতরণ যেমন জরুরি, তেমনি শিক্ষাগুরুর মর্যাদা রক্ষাও অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় জ্ঞানার্জনের ধারা ব্যাহত হয়।
শিক্ষক মা-বাবার সমতুল্য। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলি (রা.) বলেন, ‘যাঁর কাছে আমি একটি শব্দও শিখেছি, আমি তাঁর দাস।’
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) সম্পর্কে বলা হয়, তিনি কখনো শিক্ষকের বাড়ির দিকে পা ছড়িয়ে বসেননি। তাঁর শিক্ষাগুরু হাম্মাদ (রহ.)-এর জীবদ্দশায় তিনি নিজের মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেননি। কারণ তাঁর আশঙ্কা ছিল যে শিক্ষকের শিক্ষার্থীরা ওই মাদ্রাসা ছেড়ে তাঁর মাদ্রাসায় আসবে এবং বাহ্যত তিনি শিক্ষকের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে পড়বেন।
শিক্ষকের প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা শিক্ষার্থীর অপরিহার্য কর্তব্য। শিক্ষককে ভক্তি করা, তাঁর সেবা করা, তাঁর সঙ্গে কোমল ও মার্জিত ভাষায় কথা বলা, তাঁর কল্যাণকামনা করা চাই।
লেখক: অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়