হোম > পরিবেশ

প্রকৃতির গল্প বলছে নদী ও পাখির আলোকচিত্র প্রদর্শনী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে চার দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ছবি: আজকের পত্রিকা

নদী, পাখি, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে চার দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)। রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আজ শনিবার এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং ধরা’র উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। প্রদর্শনীটি ৩ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

প্রদর্শনীতে আলোকচিত্রী ও ফটোগ্রাফি শিক্ষাবিদ আবির আবদুল্লাহর নদীবিষয়ক এবং পাখি আলোকচিত্রী আনসার উদ্দিন খান পাঠানের পাখিবিষয়ক আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। এসব ছবির মাধ্যমে নদী, পাখি ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

ধরা’র সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্য জব্বার হোসেন। এতে বক্তব্য দেন ধরা’র সদস্যসচিব শরীফ জামিল, রিভার বাংলার সম্পাদক ও ধরা’র সদস্য ফয়সাল আহমেদ এবং বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পাখিবিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘নদী, পাখি ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব। “নদী ও পাখি” প্রদর্শনীর ছবিগুলো আমাদের সেই প্রকৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়, যার সঙ্গে আমাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে। শুধু ছবি দেখে মুগ্ধ হলে চলবে না; নদী দখল, দূষণ ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। নিজেদের ও আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই প্রকৃতি রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, ‘প্রদর্শনীর প্রতিটি ছবির পেছনে একটি করে গল্প রয়েছে। সেই গল্পগুলো আমাদের হৃদয় ও মননে ধারণ করতে হবে। নদী ও পাখি রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, প্রতিটি নাগরিককে সচেতন হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রকৃতি রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।’

নদী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নদী ও পাখির সৌন্দর্য তুলে ধরার পাশাপাশি নদী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের বাস্তব চিত্রও সামনে আনতে হবে। নদী দখল, দূষণ ও পরিবেশবিনাশের ঘটনাগুলো নিয়মিত নথিবদ্ধ করে মানুষের কাছে তুলে ধরলে জনসচেতনতা বাড়বে এবং নদী রক্ষার উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এম এস সিদ্দিকী বলেন, ছবি তোলা শুধু ক্যামেরায় একটি দৃশ্য ধারণ করা নয়; এর সঙ্গে মানুষের প্রতি সম্মান, ছবির মৌলিকত্ব ও দায়িত্বশীলতার বিষয়ও জড়িত। ফটোগ্রাফি চর্চায় আরও পেশাদারত্ব আনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের আরও বেশি কাজ ও গবেষণায় মনোযোগী হতে হবে।

ইনাম আল হক বলেন, ছবি তোলা ও ভালোবাসার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যিনি নদীর ছবি তোলেন, ছবি তুলতে তুলতেই তিনি নদীর জীবনকে আরও গভীরভাবে জানতে শেখেন। পাখির ক্ষেত্রেও ভালোবাসা ও জানার চর্চা একইভাবে বাড়ে। এ প্রদর্শনী শুধু ছবি উপভোগের নয়, প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধিরও সুযোগ তৈরি করেছে।

আনসার উদ্দিন খান পাঠান বলেন, নদী, জলাভূমি ও পাখি পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। নদী ও জলাভূমি সুস্থ থাকলে পাখির আবাসস্থল ও খাবারের উৎসও সুরক্ষিত থাকে। তাই পাখি রক্ষা করতে হলে নদী, জলাভূমি ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করতে হবে। পাখির সুস্থতা নদী, জলাভূমি ও সামগ্রিক প্রকৃতির সুস্থতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

ধরার সদস্যসচিব শরীফ জামিল বলেন, এ প্রদর্শনীর লক্ষ্য শুধু পাখির সৌন্দর্য তুলে ধরা নয়, প্রকৃতির প্রতি মানুষের মায়া ও ভালোবাসা জাগিয়ে তোলা। নদী, জলাভূমি ও পাখির আবাসস্থল রক্ষায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

আলোকচিত্রী আবির আবদুল্লাহ বলেন, ক্যামেরা তাঁর কাছে শুধু ছবি তোলার যন্ত্র নয়, নদী ও প্রকৃতির সময়ের সাক্ষী হয়ে থাকার একটি মাধ্যম। নদীর সৌন্দর্যের পাশাপাশি নদীভাঙন, বন্যা ও মানুষের জীবনের বাস্তবতাও ছবিতে তুলে ধরে নদী ও প্রকৃতি রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সামনে আনতে চান তিনি।