হোম > পরিবেশ

‘বায়ুদূষণ নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করছে’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর সেগুনবাগিচা ডিআরইউ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় বক্তারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বায়ুদূষণ নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করছে বলে জানিয়েছেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। তিনি বলেন, ‘বায়ুদূষণ কেবল জনস্বাস্থ্যকেই ধ্বংস করছে না, বরং এটি আমাদের নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারকেও সরাসরি বাধাগ্রস্ত করছে। জীবাশ্ম জ্বালানি, বিশেষ করে কয়লা ও জ্বালানি তেল পুড়িয়ে বাতাসে যে বিপুল পরিমাণ সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়ানো হচ্ছে, তা প্রতিনিয়ত সোলার প্যানেলের ওপর পুরু স্তর তৈরি করে এর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।’

আজ শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা ডিআরইউ মিলনায়তনে ‘বায়ুদূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন।

পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘একদিকে আমরা কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে চাইছি, অন্যদিকে বিদ্যমান মাত্রাতিরিক্ত দূষণ সেই পরিচ্ছন্ন শক্তির কার্যক্ষমতাকেই গলা টিপে ধরছে। দূষণের এই চক্রাকার প্রভাবে একদিকে যেমন সোলার প্রজেক্টগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে, তেমনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়ার পথও রুদ্ধ হচ্ছে, যা বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাকে মারাত্মকভাবে পিছিয়ে দিচ্ছে।’

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শরীফ নাফে এস-সাবের বলেন, ‘বায়ুদূষণ রোধে প্রথমেই জানতে হবে সমস্যাটা কী। দেশীয় প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। সমস্যার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলেই আমরা বুঝতে পারব, কেন দূষণ হচ্ছে এবং আমাদের জন্য কোন সমাধানটি কার্যকর।’

সভায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার বাড়াতে তিনটি সুপারিশ করা হয়। সুপারিশগুলো হচ্ছে, শিল্প খাতে ৩,০০০ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার কর্মসূচি ত্বরান্বিত করা ও সোলার যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, সোলার প্যানেল পরিষ্কারে রোবোটিক ও এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিল্পাঞ্চল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং নিশ্চিত করা।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ টি এম নুরুল আমিন, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদা পারভীন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মো. জিয়াউল হক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি কমরেড বদরুল আলম প্রমুখ।