সবচেয়ে জোরে ডাকতে পারে—এমন দুই পাখির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টের গবেষকেরা জানিয়েছেন, বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ড ও রেড-লেগড সিরিমা—দুই পাখিই ১২০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতায় ডাকতে পারে। শব্দের মাত্রার দিক থেকে যা অনেকটা কংক্রিট ফুটো করার জ্যাকহ্যামার যন্ত্রের শব্দের কাছাকাছি।
ইভল্যুশন সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণাটির সহলেখক ও বিবর্তনবিষয়ক জীববিজ্ঞানী জোয়াও সি টি মেনেজেস বলেন, দৈনন্দিন জীবনে এর কাছাকাছি শব্দের উদাহরণ হলো জ্যাকহ্যামার।
২০১৯ সালে হোয়াইট বেলবার্ডের ডাক সর্বোচ্চ ১২৫ ডেসিবেল পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছিল। পরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে জোরালো পাখির ডাক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। নতুন গবেষণায় অবশ্য দেখা গেছে, কোন পাখিকে ‘সবচেয়ে জোরে ডাকা পাখি’ বলা হবে, তা নির্ভর করে শব্দ পরিমাপের পদ্ধতির ওপর।
বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ডের ডাক এক মিটার দূরত্বে সর্বোচ্চ প্রায় ১৩১ ডেসিবেল পর্যন্ত উঠেছিল—গবেষণায় পাওয়া পৃথক কোনো পাখির সর্বোচ্চ মাত্রা এটিই। অন্যদিকে, ২০ মিলিসেকেন্ড সময়ের গড় হিসাব করলে রেড-লেগড সিরিমার ডাক প্রায় ১২১ ডেসিবেল।
গবেষকেরা ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ও ব্রাজিলে ১২৩ প্রজাতির পাখির ডাক রেকর্ড করেন। এর মধ্যে ১১৩ প্রজাতির ডাক আগে কখনো রেকর্ড করা হয়নি।
মাঠপর্যায়ে পাখির শব্দের মাত্রা মাপা বেশ কঠিন। কারণ, পাখি থেকে রেকর্ডিং যন্ত্রের দূরত্বের ওপর শব্দের মাত্রা নির্ভর করে। গবেষকেরা এ ক্ষেত্রে লেজার রেঞ্জফাইন্ডার ব্যবহার করেন, যার মাধ্যমে একই সঙ্গে পাখির দূরত্ব ও শব্দের মাত্রা নির্ণয় করা সম্ভব হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণত বড় আকারের পাখি ও যাদের ঠোঁটের মুখ বেশি প্রশস্ত, তারা তুলনামূলক জোরে ডাকতে পারে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বড় পাখির শক্তিশালী পেশি শরীরের ভেতরে বেশি চাপ তৈরি করতে পারে, যা উচ্চতর শব্দ উৎপন্ন করে। প্রশস্ত মুখ আবার সেই শব্দের শক্তি পরিবেশে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে।
তবে এখানেও রহস্য রয়েছে। কিছু ছোট পাখি হাতি, সিংহ বা বাইসনের মতো অনেক বড় প্রাণীর চেয়েও জোরে শব্দ করতে পারে। ফলে পাখিদের এত উচ্চমাত্রার শব্দ উৎপাদনের পেছনে আরও কোনো অজানা প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
গবেষকেরা বলছেন, পাখির ডাকের বিবর্তন ও পরিবেশগত কারণ নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে আরও প্রজাতির শব্দ রেকর্ড করা হলে বিশ্বের ‘সবচেয়ে জোরে ডাকা পাখি’র তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।