দেশের পাশাপাশি বিদেশেও মঞ্চনাটকে অভিনয় ও নির্দেশনা দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে নাট্যজন মামুনুর রশীদের। এবার প্রথমবারের মতো নেপালের নাট্যদলের জন্য নেপালি ও ইংরেজি ভাষার নাটকের নির্দেশনা দিলেন তিনি। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন নেপাল, আয়ারল্যান্ড ও হংকংয়ের শিল্পীরা। গতকাল নেপালের কাঠমান্ডুতে সর্বনাম থিয়েটারের মিলনায়তনে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হলো ‘আয়ো গোর্খালি’ নামের নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন। একই স্থান ও সময়ে আজ রয়েছে নাটকটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী।
আয়ো গোর্খালি নাটকটি লিখেছেন মক চিউ ইয়ু। তাঁর সঙ্গে মামুনুর রশীদের পরিচয় প্রায় চার দশকের। গোর্খাদের জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে দেড় দশক ধরে নাটক লেখার পরিকল্পনা করছিলেন মক চিউ ইয়ু। এ নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছেন মামুনুর রশীদের সঙ্গে। এ বছর শেষ হয় নাটক লেখার কাজ। এরপর নেপালের সর্বনাম থিয়েটার মামুনুর রশীদকে আমন্ত্রণ জানায় নাটকটি নির্দেশনা দেওয়ার জন্য।
নাটকটির মূল বিষয়বস্তু বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও বিশ্বজুড়ে পরিচিত নেপালের গোর্খা সেনাদের জীবনসংগ্রাম। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও আনুগত্যের পরও গোর্খা যোদ্ধারা কীভাবে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং ব্রিটিশ সেনাদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার হয়—সেই বাস্তবতাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এতে। অভিনয় করেছেন আয়ারল্যান্ডের মাইক, হংকংয়ের কারমেন, জেসিকা, নেপালের আরুশ ম্যাগার, হিরা হামাল, বিভুসা প্রমুখ। উদ্বোধনী প্রদর্শনী শেষে নাটকটি বিভিন্ন দেশে অভিনীত হবে।
নেপাল থেকে মোবাইল ফোনে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘নেপালে এর আগে মঞ্চনাটকে অভিনয় করলেও নেপালি ভাষায় নির্দেশনা এবারই প্রথম। প্রায় এক মাস আমরা নাটকটি নিয়ে কাজ করছি। পুরো প্রক্রিয়াটি আমার জন্য শেখার দারুণ একটি অভিজ্ঞতা হলো। নেপালের দর্শকেরা ভীষণ পছন্দ করেছে নাটকটি। পুরো মিলনায়তন ভরে উঠেছে দর্শকে।’