এভারেস্ট জয়ের ইতিহাসে এডমন্ড হিলারির নাম যতটা উচ্চারিত হয়, নেপথ্যের নায়ক তেনজিং নোরগের জীবনের গল্প ততটা সামনে আসেনি। এবার সেই অজানা অধ্যায় উঠে এসেছে অ্যাপল টিভির নতুন সিনেমা ‘তেনজিং’-এ। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমার মূল চরিত্র অর্থাৎ তেনজিং নোরগের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিব্বতি অভিনেতা গেনডেন ফুনসোক। আর এডমন্ড হিলারির চরিত্রে দেখা যাবে হলিউড তারকা টম হিডলস্টনকে।
মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে লোকি চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন হিডলস্টন। আগামী ১৮ ডিসেম্বর ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ সিনেমায় আবারও লোকি হয়ে ফিরছেন তিনি। তবে এর আগেই মার্ভেলের সুপারহিরোর জগৎ থেকে বেরিয়ে এক বাস্তব চরিত্রে পর্দায় হাজির হচ্ছেন এই ব্রিটিশ অভিনেতা।
তেনজিং সিনেমার গল্পে দেখা যাবে, ১৯৫৩ সালে কর্নেল জন হান্টের নেতৃত্বে মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের উদ্দেশে হিমালয়ে আসে এক ব্রিটিশ অভিযাত্রী দল। এই দলের পথপ্রদর্শক বা শেরপা হিসেবে যোগ দেন তেনজিং নোরগে। তৎকালীন পশ্চিমা অভিযাত্রীদের চোখে শেরপারা ছিলেন কেবলই মালবাহক বা আজ্ঞাবহ সেবক। কিন্তু আত্মমর্যাদার প্রশ্নে অনড় ছিলেন তেনজিং। তিনি ব্রিটিশ দলকে এটি বোঝাতে সক্ষম হন যে তিনি কেবলই তাদের সেবক নন, বরং চূড়ায় ওঠার যোগ্য এক সমান অংশীদার।
শুধু তা-ই নয়, সিনেমায় পাহাড় নিয়ে দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও ফুটে উঠেছে। পশ্চিমা অভিযাত্রীদের কাছে এভারেস্ট ছিল কেবলই একটি দুর্গম পাহাড়। অন্যদিকে তেনজিংয়ের কাছে এটি ছিল পরম শ্রদ্ধার পবিত্র দেবী চোমোলুংমা। এই পাহাড় জয় তেনজিংয়ের কাছে ছিল আজীবনের লালিত স্বপ্ন আর আধ্যাত্মিক সাধনার পূর্ণতা। শ্রেণিবৈষম্য, সংস্কৃতির সংঘাত আর বিপৎসংকুল পাহাড়—সব মিলিয়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর আরোহণের গল্প এটি।
গেনডেন ফুনসোক ও টম হিডলস্টন ছাড়াও তেনজিং সিনেমায় কর্নেল জন হান্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন উইলেম ড্যাফো। জেনিফার পিডম পরিচালিত ও লুক ডেভিসের চিত্রনাট্যে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তি পাবে ১৬ অক্টোবর অ্যাপল টিভিতে।