মাঝ আকাশে বিমানের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ওপর হামলা এবং কামড়ে দেওয়ার অভিযোগে আইনি জটিলতায় পড়েছেন মার্কিন অভিনেত্রী সেলমা ব্লেয়ার। শুধু বিমানেই নয়, অ্যাম্বুলেন্সে এক পুলিশ কর্মকর্তা এবং হাসপাতালে এক নার্সকেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ‘লিগ্যালি ব্লন্ড’ ও ‘হেলবয়’খ্যাত ৫৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে।
গত রোববার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্কগামী ডেল্টা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে এফবিআই তদন্ত শুরু করেছে এবং সেলমা ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে।
রোববার স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে ডেল্টা এয়ারলাইনসের ওই ফ্লাইটে সেলমা ব্লেয়ার হঠাৎ সহিংস হয়ে ওঠেন। নিউইয়র্ক পোর্ট অথরিটি জানায়, বিমানে এক ‘সহিংস যাত্রীর’ খবর পেয়ে তারা সেখানে পৌঁছায়। সেলমার হামলায় দুজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট আহত হন, যাঁদের একজনকে পরে হাসপাতালে নিতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিমানের ক্রুরা সেলমা ব্লেয়ারকে জোরপূর্বক নিবৃত্ত করে সিটে আটকে রাখেন।
বিমান অবতরণের পর সেলমাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও তিনি শান্ত ছিলেন না। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে লাথি মারেন এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর পর এক নার্সের ওপর হামলা করেন।
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁকে কুইন্স সেন্ট্রাল বুকিংয়ে নেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতালে হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার (সেকেন্ড-ডিগ্রি) হামলার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সেলমা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন। আগামী ১৯ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। এ ছাড়া বিমানে হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আলাদাভাবে ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সেলমা ব্লেয়ারের জনসংযোগ কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আকস্মিক শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি এমন আচরণ করেছেন। বিমান অবতরণের পর তাঁকে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন।
২০১৮ সালে জটিল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর অভিনয় থেকে অনেকটাই নিজেকে গুটিয়ে নেন সেলমা ব্লেয়ার। বিমানে তাঁর এমন কাণ্ড এবারই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে মেক্সিকো থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী একটি ফ্লাইটেও তিনি মাতাল অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরণ করে তোপের মুখে পড়েছিলেন। পরে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।