জনপ্রিয় সাই-ফাই ও ওপেন-ওয়ার্ল্ড আরপিজি ভিডিও গেম ‘সাইবারপাঙ্ক ২০৭৭’ এবার আসছে সিনেমার পর্দায়। প্যারামাউন্টের ব্যানারে নির্মিত হতে যাচ্ছে লাইভ-অ্যাকশন সিনেমাটি। প্রযোজনা করছেন ‘ট্রান্সফরমার্স’খ্যাত প্রযোজক লরেঞ্জো ডি বোনাভেন্টুরা। তাঁর সঙ্গে যৌথ প্রযোজক হিসেবে রয়েছে গেমটির মূল নির্মাতা পোল্যান্ডভিত্তিক গেম ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সিডি প্রজেক্ট রেড।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া সাইবারপাঙ্ক ২০৭৭ গেমটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে ভবিষ্যৎ শহর নাইট সিটিকে ঘিরে। পুরো শহর নিয়ন্ত্রণ করে আরাসাকা নামের এক ক্ষমতাবান করপোরেট কোম্পানি। সেখানে দুর্নীতি, অপরাধ আর গ্যাংস্টারদের রাজত্ব।
গেমটিতে খেলোয়াড়েরা ভি নামের এক ভাড়াটে খুনির চরিত্রে অবতীর্ণ হয়। আরাসাকা কোম্পানির কাছ থেকে মহামূল্যবান একটি বায়োচিপ চুরি করতে গিয়ে ভয়াবহ বিপদে পড়ে ভি। বাধ্য হয়ে চিপটি সে নিজের মাথায় ঢুকিয়ে নেয়। কিন্তু ওই চিপে ছিল জনি সিলভারহ্যান্ড নামের এক মৃত সন্ত্রাসীর ডিজিটাল সত্তা, যা ধীরে ধীরে ভির মস্তিষ্ক ও শরীর দখল করতে থাকে। গেমটিতে জনি চরিত্রটির রূপদান করেছেন হলিউড তারকা কিয়ানু রিভস।
মাথার ভেতরে থাকা জনি আর বাস্তবের ভি—প্রথমে কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না। কিন্তু পরে তারা বুঝতে পারে, এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এরপর ভি এবং জনি মিলে নাইট সিটি নিয়ন্ত্রণকারী আরাসাকার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।
শুরুর দিকে নানা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও সমালোচনার মুখে পড়লেও সাইবারপাঙ্ক ২০৭৭ গেমটি পরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাফল্য পায়। এখন পর্যন্ত এর মূল গেম ৪ কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া এর বর্ধিত সংস্করণ ‘ফ্যান্টম লিবার্টি’ বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ কপি।
হলিউডে একসময় ভিডিও গেমনির্ভর সিনেমা নিয়ে হাসাহাসি হলেও এখন তা বক্স অফিসে সাফল্যের অন্যতম মূলমন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘ফাইভ নাইটস অ্যাট ফ্রেডি’স’, ‘দ্য সুপার মারিও ব্রোস মুভি’ বা ‘আ মাইনক্রাফট মুভি’-এর মতো সিনেমাগুলোর সাফল্য তারই প্রমাণ।
তবে এগুলো মূলত অল্পবয়সীদের লক্ষ্য করে বানানো হলেও সাইবারপাঙ্ক ২০৭৭ দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের টানতে চাইছে প্যারামাউন্ট। এই একই কৌশলের অংশ হিসেবে ‘কল অব ডিউটি’ ও ‘স্ট্রিট ফাইটার’ সিনেমাও আনছে প্রতিষ্ঠানটি।