ঢালিউডে প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ার চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমার। নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগে, ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজুর ‘এ জীবন তোমার আমার’ দিয়ে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিষেক। প্রথম সিনেমাতেই তিনি হাজির হন রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে; দর্শকদের উপহার দিয়েছেন একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা।
ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সিনেমাতেই পূর্ণিমাকে দেখা গেছে ‘মিষ্টি মেয়ে’র চরিত্রে। দর্শক এই চেনা রূপে তাঁকে লুফে নেওয়ায় নির্মাতারাও কখনো ভিন্নধর্মী কোনো চরিত্রে তাঁকে নিয়ে ভাবেননি। ক্যামেরার সামনে দীর্ঘ ২৮ বছর পার করার পর, এবার পর্দায় ‘ভিলেন’ বা খলনায়িকা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন এই অভিনেত্রী।
১১ জুলাই ছিল পূর্ণিমার জন্মদিন। এ উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজের এই ইচ্ছার কথা জানান তিনি। অভিনেত্রী জানান, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানামাত্রিক চরিত্রে অভিনয় করলেও কখনো খলচরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাননি। ভবিষ্যতে এমন একটি জাঁদরেল চরিত্রে অভিনয় করতে চান, যা দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলবে এবং অভিনেত্রী হিসেবে তাঁকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ দেবে।
নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে পূর্ণিমা বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছা খলনায়িকা বা ভিলেন টাইপ চরিত্রে অভিনয় করার। পর্দায় এমন একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে চাই, যার প্রতি মানুষের তীব্র ঘৃণা তৈরি হবে।’
পূর্ণিমার ধারণা, তাঁর চেহারার কোমলতার কারণেই নির্মাতারা তাঁকে কখনো নেতিবাচক চরিত্রে ভাবেননি। অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, ‘এখন পর্যন্ত খলচরিত্রে অভিনয় করা হয়নি আমার। আমাকে নিয়ে হয়তো কেউ তেমনটা চিন্তাই করেননি। সবাই ভাবেন আমার চেহারার সঙ্গে নেতিবাচক চরিত্র ঠিক জমবে না। দর্শকেরা আমাকে রোমান্টিক ও পরিপাটি লুকে দেখতেই অভ্যস্ত। তবে এবার এর বিপরীতে কিছু হলে খুব ভালো হতো।’
কয়েক বছর ধরেই অভিনয়ে অনিয়মিত পূর্ণিমা। মাঝে মাঝে টেলিভিশনের পর্দায় সঞ্চালক কিংবা রিয়েলিটি শোর বিচারক হিসেবে পাওয়া গেলেও, অভিনেত্রী হিসেবে তিনি অনেকটাই আড়ালে। সবশেষ ২০২৪ সালের রোজার ঈদে মুক্তি পাওয়া ছটকু আহমেদের ‘আহারে জীবন’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এর আগে ২০২৩ সালে কাজল আরেফিন অমির ‘হোটেল রিলাক্স’ ওয়েব সিরিজ দিয়ে ওটিটি মাধ্যমে নাম লেখালেও, এরপর আর ওটিটিতেও দেখা মেলেনি তাঁর।