হোম > বিনোদন > সিনেমা

সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে টালিউডে

আনহার মিয়ার ‘বিলাই মেও মেও রে’

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা

আনহার মিয়া, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও অনন্যা রুমা। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে কবিরাজ-বাউলেরা রোগী দেখার সময় বা বিষ নামানোর সময় বিশেষ সুর ও ছন্দে একধরনের গান পরিবেশন করেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘ওঝার গান’ বা ‘বিষঝাড়ানি’ নামে পরিচিত। তেমন এক কবিরাজ বাউল মোহাম্মদ আনহার মিয়া। প্রায় তিন বছর আগে সিলেটের বিয়ানীবাজারে রোগী দেখার সময় তিনি বানিয়েছিলেন ‘বিলাই মেও মেও রে’ শিরোনামের গান। এবার সেই গান ব্যবহার হলো টালিউডের দুই জনপ্রিয় নির্মাতা নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’ সিনেমায়।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৫ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু। এ উপলক্ষে গত শুক্রবার প্রকাশ পায় বিলাই মেও মেও রে গানটি। আনহার মিয়ার লেখা গানের কথা ও সুর ঠিক রেখে সংগীত আয়োজন করেছেন বনী চক্রবর্তী ও সুদীপ্ত পাল। কণ্ঠ দিয়েছেন বনী চক্রবর্তী। গানের ক্রেডিট লাইনে গীতিকার ও সুরকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আনহার মিয়ার নাম। সিনেমার প্রচারে বেশ জোরেশোরেই ব্যবহার করা হচ্ছে গানটি। প্রচারের অংশ হিসেবে বিগ বস বাংলায় এই গানের সঙ্গে কোমর দুলিয়ে নেচেছেন অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, অভিনেত্রী কৌশানী মুখার্জি ও সঞ্চালক সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলী।

আনহার মিয়া জানালেন, চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান প্রযোজক অনন্যা রুমার মাধ্যমে বিলাই মেও মেও রে গানের জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বহুরূপী টিম। বনী চক্রবর্তীর কণ্ঠে গানটি প্রকাশ পেলেও আনহার মিয়ার কণ্ঠেও গানটি রেকর্ড করা হয়েছে। আনহার জানান, নির্মাতারা তাঁকে জানিয়েছেন পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে তাঁর গাওয়া ভার্সনটি।

আনহার মিয়া বলেন, ‘আমাকে না পেয়ে প্রথমে বনী চক্রবর্তী গানটি গেয়েছেন। পরে তাঁদের আমন্ত্রণে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আমি কলকাতায় যাই। ২৫ সেপ্টেম্বর আমি গানটিতে কণ্ঠ দিই। এখন বনী চক্রবর্তীর গাওয়া গানটি প্রকাশ করা হয়েছে। আমাকে বলেছে, পরে আমারটা ছাড়া হবে। আমারটা যদি নাও ছাড়ে কোনো দুঃখ নাই। বহুরূপী সিনেমার পরিচালক শিবু দাদা আমাকে অনেক সম্মান করেছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন, ভালো সম্মানী দিয়েছেন। তাতেই আমি খুশি।’

আনহার মিয়ার কণ্ঠে শোনা গেল বনী চক্রবর্তীর প্রশংসা। তিনি বলেন, ‘রেকর্ডিয়ের সময় বনী চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি বললেন, ভাই, আপনার দারুণ কণ্ঠ। আমি আপনাকে ফলো করে গেয়েছি। এরপর আমাকে উনার রেকর্ডটি শোনান। কোনো ভুল আছে কি না দেখতে বলেন।’

আনহার মিয়া জানালেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে কবিরাজির সঙ্গে যুক্ত তিনি। শুরুটা হয়েছিল মাত্র ৮ বছর বয়স থেকে। আনহার মিয়া বলেন, ‘ঝাড়ফুঁক করে যারা শরীরের বিষ নামায়, তারা কবিরাজ বা ওঝা। ছোটবেলায় তাদের দেখেই উৎসাহ জাগে। ৮ বছর বয়স থেকে দীক্ষা নিতে শুরু করি। ঝাড়ফুঁক করার সময় গান গাই। প্রায় তিন বছর আগে বিয়ানীবাজারে রোগী দেখার সময় বিলাই মেও মেও রে গানটি প্রথম গাই। হঠাৎ করেই মনে আসে, গেয়ে দিই। সেই গান কলকাতার সিনেমায় নেওয়া হইছে। আমি খুব খুশি।’

এমন কতসংখ্যক গান লেখা আছে জানতে চাইলে আনহার মিয়া বলেন, ‘আমি অল্প শিক্ষিত মানুষ। আমার লেখা গানের সংখ্যা খুব কম। তিন-চারটা গান হবে আমার লেখা।’ কবিরাজির পাশাপাশি বাংলা ঢোল স্টুডিওতে ঢোল বাজান আনহার মিয়া।