সাক্ষাৎকার

ভয় পাই জিন ভূতকে—যাদের দেখি না, যারা পেছনে কথা বলে, সামনে আসার সাহস করে না: আসিফ আকবর

আসিফ আকবর একসময় নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন। পরে গান গেয়ে জনপ্রিয় হন। জনপ্রিয় এই শিল্পী আবার ফিরেছেন ক্রিকেটে। গানের পাশাপাশি ক্রিকেট নিয়ে বেড়েছে তাঁর ব্যস্ততা। ক্রিকেট নিয়ে কী ভাবছেন আসিফ? ক্রিকেটের এই ব্যস্ততায় গানের ক্ষতি হচ্ছে না তো? এবার ঈদে শ্রোতাদের কী উপহার দিচ্ছেন? এত ব্যস্ততায় সংসারটা ঠিকঠাক আছে তো? আসিফ আকবরের সঙ্গে কথা বলেছেন এম এস রানা

সম্প্রতি দেশের ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। কতটা দক্ষতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করতে পারছেন?

বিসিবিতে এটা আমার নতুন জায়গা হলেও আমি ক্রিকেটের পুরোনো লোক। সংগঠক হিসেবে যতটুকু অভিজ্ঞতা আছে, পাশাপাশি নতুনভাবে যেসব ইনস্ট্রাকশন পাচ্ছি, যা শিখছি, জানছি, সেগুলো মাঠে দেখানোর চেষ্টা করছি। আমি এজ গ্রুপ টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান। আমাদের এজ লেভেলের খেলা এখন ফেসটিভ মুডে আছে।

কাজ করতে গিয়ে কোনো বাধার মুখে পড়েছেন?

না, পড়িনি। আমি মনে করি দেশের রাজনীতির চেয়ে এখন বিসিবির ক্রিকেট নিয়ে মানুষ বেশি ব্যস্ত। এটা আমার জন্য, আমাদের ক্রিকেটের জন্য ভালো। আমরা আবর্জনা ক্লিন করছি। আমাদের চলার পথে যেসব পঙ্কিলতা আছে, জটিলতা আছে, সেগুলো দূর করে ক্রিকেটটাকে মাঠে গড়ানোর চেষ্টা করছি এবং হচ্ছে অলরেডি। এখন ডোমেস্টিক ক্রিকেটে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ আপনার জনপ্রিয় অ্যালবাম। কথিত আছে, এই অ্যালবাম ওই সময়ে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সহযোগিতা করেছে। ব্যাপারটা আসলে কী?

এটা নিঃসন্দেহে একটা সঠিক খবর। কারণ, ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ যেভাবে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিল, তা আমিও আশা করিনি এবং সেটার রেশ এখনো পাচ্ছি। যাদের বয়স ২০, ২২ বা ২৩, যাদের জন্মের আগে রিলিজ হয়েছিল অ্যালবামটি; তাদের মনেও জায়গা করে নিয়েছে গানটি। তার মানে, ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ একটা সাসটেইনেবল অ্যালবাম ছিল এবং এটা এখনো কার্যকরী আছে।

আগে তো ক্যাসেট বা সিডিতে ৮ থেকে ১২টি গান নিয়ে অ্যালবাম প্রকাশিত হতো। মানুষ চাইলেই গান শুনতে পেত। এখন কি সেভাবে চাইলেই গান শোনা যায়? ব্যবস্থাটা আসলে কী?

এখন তো আমরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চলে এসেছি। ক্যাসেট থেকে সিডি, সিডি থেকে ডিভিডি, এরপর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। পুরো প্রক্রিয়াটায় একটা বিশৃঙ্খলা ছিল। আমরা অভ্যস্ত ছিলাম না। এখন সিঙ্গেলসের যুগ, অ্যালবামের যুগ নেই। নতুনভাবে যেন নতুন জেনারেশন কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করছি।

কী কাজ করছেন?

গানের স্কুল করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেখানে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্টাফ নোটেশনের কাজ হবে। দেশের বাইরে থেকে ইনস্ট্রাক্টর আনা হবে। আমাদের শিশুদের স্টাফ নোটেশন শেখানো হবে, যেন তারা সংগীতের প্রপার লাইনে কাজ করতে পারে।

ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার শত্রু বেশি, নাকি বন্ধু?

শত্রুমিত্র বুঝি না। আমি বেশি ভয় পাই জিন ভূতকে—যাদের দেখি না, যারা আমার পেছনে কথা বলে, সামনে আসার সাহস করে না।

আগে গান হতো বেশি, মিউজিক ভিডিও কম। এখন তো মিউজিক ভিডিও ছাড়া গান প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এই মিউজিক ভিডিও কি শিল্পীদের গান প্রকাশে বা শিল্পচর্চায় বাধা তৈরি করছে?

আমি মনে করি, একটা বয়স থাকে; এখন যেমন ইমরান, পড়শীদের মতো ইয়াং জেনারেশন নিজেকে ফোকাস করে মিউজিক ভিডিও করলে ভালো লাগবে। আর আমরা এই বয়সে, এই সময়ে যারা আছি, আমাদের মিউজিক ভিডিও করা বোকামি। কারণ, নায়িকাদের সঙ্গে হাঁটাহাঁটি, অভিনয়—এসব করে টাকার শ্রাদ্ধ না করে আমরা কিছু ভালো গান করলাম, ভালো কিছু মিউজিক ট্র্যাক করলাম, ভালো কথা ও সুর নিলাম, সেটাই উচিত। আমি তো সেদিকেই হাঁটছি।

আপনার গানের সংখ্যা কত হলো?

সাড়ে তিন হাজার প্লাস তো হবেই।

এবার ঈদে নতুন কী গান আসছে?

এটা তো এখনই পারফেক্টলি বলা যাবে না। তবে ‘অঙ্গীকার’ নামে সুন্দর একটা মেলোডি গান বের হচ্ছে, যেটা রাজীব রায় চৌধুরীর কম্পোজিশন, বুদ্ধ লিখেছেন এবং মিউজিক ভিডিও করেছেন ইয়ামিন এলান। সাউন্ডটেকের একটা গান আসবে ‘ভুল’, যেটা রেজোয়ান শেখ সুর ও সংগীত করেছে আর ফয়সাল রাব্বিকিন লিখেছে। আরও কিছু গান তৈরি আছে। আসলে বিসিবি এবং বিদেশে আমার মিউজিক ট্যুরের কারণে সাড়ে পাঁচ মাস কোনো কাজেই ছিলাম না।

বিসিবির দায়িত্ব কি আপনার গানের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করছে?

না। আমি ক্রিকেটকে ভালোবাসি, মাঠ ভালোবাসি। আমার শৈশবটা ওভাবেই কেটেছে। ক্রিকেট যতটুকু শিখেছি, মিউজিকটা অতভাবে পারি না। কিন্তু আমি সফল হয়েছি মিউজিকে। ক্রিকেটের দায়িত্বটা পেলাম। যদি কোনো দায়িত্ব নিই, তাহলে সেটা পালন করতে হবে, সেটাই করার চেষ্টা করছি। এ জন্য কিছু হ্যাম্পার হচ্ছে মিউজিকে, তবে সেটা পুষিয়ে নেব ইনশা আল্লাহ।

সার্বিকভাবে আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা কেমন?

খুব খারাপ। গত কয়েক বছর মিসম্যানেজমেন্টের কারণে, গার্ডিয়ানহীনতার কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি। অনেক প্রডিউসারও পিছিয়ে গেছেন।

উত্তরণের উপায় কী?

ভালো গানে এবং সংখ্যার চেয়ে কোয়ালিটিতে মনোযোগ দেওয়া উচিত। হিট হওয়ার মানসিকতা থেকে বের হয়ে গানের স্থায়িত্বের বিষয়ে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

নতুনদের জন্য পরামর্শ কী—গানটা কি শিখে আসাটাই গুরুত্বপূর্ণ, নাকি চর্চা?

গান শেখা এবং চর্চা—দুটির ব্যাপারে আমি একদম বকলম। এ বিষয়ে আসলে এক্সপেরিয়েন্স নেই। এটা শাস্ত্রীয় ব্যাপার, যেটা আমার নেই। যদিও গানে পপুলারিটি পেয়েছি, পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছি—লাকি আর্টিস্ট আমি। তবে চর্চা, গান শেখা—এগুলো ম্যান্ডেটরি।

আপনার তো দুই ছেলে। ওরা গান করে?

ওরা গান পছন্দ করে, গান করে না। বড় ছেলে ভালো গান গায়, গিটার বাজায়। সে জিজ্ঞেস করেছিল, আমি কি গানে ক্যারিয়ার করতে পারব? আমি বলেছি, গানে তুমি ভালো করতে পারবা, কিন্তু গানের যে পরিবেশ, সেটা তোমার সঙ্গে যায় না। আমার সঙ্গে যায়, আমি কাউকে কেয়ার করি না, স্ট্রেইট কথা বলে ফেলি। হঠাৎ করে চোখ পকেটে নিয়ে নিই। সত্যি কথা বলে ফাইট করি, এটা তোমার পক্ষে সম্ভব নয়। তুমি জেন্টলম্যান, তোমাকে দিয়ে মিউজিক হবে না।

আপনার পারিবারিক জীবনের কথা বলুন।

আমার দুই ছেলে, এক মেয়ে। বড় ছেলে টরন্টো থাকে, একটা ব্যাংকে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করছে। ছোট ছেলে একটা এয়ারলাইনস বিজনেসে আছে্ছ। দুজনেই বিবাহিত। মেয়েটা ছোট, চার বছর হতে যাচ্ছে। হ্যাপি ফ্যামিলি। বউয়ের কথা বলব না। সে তার জায়গায় আছে, সব সময় থাকবে।

একটা সময় তো ভক্তদের ভালোবাসার যন্ত্রণা অনেক সয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই অনেক প্রেমের প্রস্তাব আসত। এখন আসে?

এখনো বাজার আছে, এখনো আসে।

আপনি কারও প্রেমে পড়েছেন?

পুরুষ মানুষ তো এমনিতে একটু স্লিপি হয়। তবে আমি অতটা স্লিপি না। ভালো লাগে। ভালো লাগা আর ভালোবাসার ডিফারেন্স আছে। হয়তো কেউ আমাকে ভালোবাসেন। ওনার ভালোবাসাটা আমার ভালো লাগে। প্রেম তো একটা শাশ্বত জিনিস, এটা ইয়াং রাখে মানুষকে। তবে আমার বউ খুব প্রাউড ফিল করে। যদি কোনো প্রেমের প্রস্তাব আসে, আমি আমার বউকে বলে দিই, সে খুব খুশি হয়। ভাবে, তার স্বামীর ডিমান্ড এখনো আছে।

ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে কী মনে হয়, আপনার জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে বেড়েছে না কমেছে, নাকি আগের জায়গায় আছে?

আমি কখনোই জনপ্রিয়তা নিয়ে ভাবি না। আমার যেটা মন চায়, আমি সেটা বলি বা করি।

আপনার অফিসে সন্ধ্যাকালীন আড্ডা হয়, ইন্ডাস্ট্রির অনেক গুণী শিল্পী আসেন। জনপ্রিয় অনেক গানের আঁতুড়ঘর ওই আড্ডা। ওই আড্ডা সম্পর্কে বলুন।

যত দিন বেঁচে আছি, সন্ধ্যাকালীন আড্ডা চলবে। আড্ডা হচ্ছে আমার খাদ্যের মতো। আমি একা চলতে পারি না, একা চলা আমার জন্য অসম্ভব ব্যাপার। আমি কোনো আড্ডায় যাই না, খুব বিপদে না পড়লে কোনো পার্টিতেও যাই না। আড্ডায় আমরা ক্যারম বোর্ড খেলি, আড্ডা দিই, কখনো গিটার নিয়ে সেশন করি, আমরা মিউজিক করি, কথা বলি। আসলে আড্ডাটা হচ্ছে প্রাণ সঞ্চারের জায়গা। গাছের গোড়ায় পানি দিলে যেমন গাছ সজীব থাকে, ওই আড্ডাটা আমাকে সজীব রাখে।

গান জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম মাধ্যম সিনেমা। যে গানটা ফিল্মে হিট করে, ওই গান দীর্ঘদিন টিকে যায়। যেমন ‘মনপুরা’ কিংবা ‘রানীকুঠির বাকী ইতিহাস’ সিনেমার গান। আমাদের ফিল্মের গান এখন কী অবস্থায় আছে?

এখন ওরকম মেলোডি গান বা গানের লিরিকের গভীরতা নেই। বড় বড় লিরিসিস্ট যাঁরা প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদের উত্তরসূরিদের অংশগ্রহণ নেই। যেমন লতিফুল ইসলাম শিবলী বাংলাদেশের বড় গীতিকার। তাঁর অংশগ্রহণ কোথায়? এখন গীতিকার, সুরকার কোম্পানি লবিং করে চলে। লবিং তো আসলে সাসটেইনেবল হয় না। যাঁরা প্রকৃত সুরকার, গীতিকার, তাঁদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। সিনিয়র শিল্পীরা ডিমোরালাইজড, তাঁরা সন্তানদের মিউজিকে দেন না। গায়কের সন্তান গানে আসতে চায় না। ওই অবস্থাটা আমরা তৈরি করতে পারিনি, যেটাকে বলে সোশ্যাল সিকিউরিটি। শিল্পীদের সামাজিক নিরাপত্তা হলেই তারা মিউজিকের মতো একটা সুকুমারবৃত্তি লালন করতে পারবে।

সম্প্রতি ‘ঝামেলা’ নামের একটি সিনেমার সব কটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। কলকাতার কবীর সুমনও আছেন গানে...

আগেও আমি ‘রানীকুঠির বাকী ইতিহাস’ ও ‘গহীনের গান’ নামে দুটি সিনেমার সব কটি গানে কণ্ঠ দিয়েছি। এবার গেয়েছি ইয়ামিন এলানের ‘ঝামেলা’ সিনেমার সব কটি গান। এখানে গান থাকছে ছয়টি। কবীর সুমনের দুটি গান আছে। গানগুলো আরও আগেই রেকর্ডিং করা। সেখানে একটা গান আছে ‘মামলা কি হয় ভালোবাসার’, কবীর সুমনের লেখা। ‘এটাই হয়তো শেষ বসন্ত’ সুহৃদ সুফিয়ানের লেখা এবং কিশোর দাসের সুর করা। একটা গান আছে ‘সদরঘাটের পান’ যেটা মারজুক রাসেলের সুর এবং লেখা। এ রকম ছয়টা গান নিয়ে সিনেমাটি আসবে কোরবানির ঈদে।

‘ঈদ আনন্দ’ উপস্থাপনায় মুকিত জাকারিয়া ও নাবিলা ইসলাম

সাত তারকার অংশগ্রহণে নাগরিকের ‘তারায় তারায়’

আসছে গোলমাল ৫, থাকছে বড় চমক

ট্রেলার শেয়ার করে সিয়াম লিখলেন, ‘রাক্ষস মাঝরাতেই আসে’

প্রেমের গল্পে জুটি বাঁধলেন রোশান ও চমক

ঈদে চালু হচ্ছে নতুন সিনেপ্লেক্স খুলছে বন্ধ হল

সম্পদ কিছুটা কমলেও এখনো ভারতের শীর্ষ ধনী অভিনেতা শাহরুখ

অমিতাভ রেজা ও মুশফিকা দম্পতির পরিচালনায় ‘লাভ সিটার’

ঈদ উপলক্ষে শর্টফিল্ম ‘হোম নট কামিং’

ঈদের নাটক ‘যে বাঁধন যায় না ছেঁড়া’