দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছিলেন নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলী। নিয়মিত চিকিৎসাও করাচ্ছিলেন। তবে গত বছরের অক্টোবরে তাঁর জীবনের গতিপথটাই বদলে যায়। স্ট্রোক করে ভর্তি হন হাসপাতালে। এখনো অসুস্থ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই নির্মাতা। শাহনেওয়াজ কাকলীর সুস্থতার জন্য লড়ছেন তাঁর স্বামী অভিনেতা প্রাণ রায়।
গত অক্টোবরে স্ট্রোক করার পর টানা দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন কাকলী। মাঝে মাসখানেক বাসায় চলেছে চিকিৎসা। চলতি মাসের প্রথম দিন আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। এখন সেখানেই চলছে এই নির্মাতার চিকিৎসা। কাকলীর শারীরিক অবস্থার খবর জানিয়ে আজকের পত্রিকাকে প্রাণ রায় বলেন, ‘কাকলীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু সেটা ধীরগতিতে। এখনো কথা বলতে পারছে না। কারণ স্ট্রোকের ফলে মুখের এক অংশ বাঁকা হয়ে আছে। ওটা ঠিক করানোর জন্য থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। আগে উঠে বসতে পারত না। একা বসে থাকতেও পারত না। এখন নিজ হাতে খেতে পারছে। হাঁটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
প্রাণ রায় জানান, ব্যয়বহুল চিকিৎসায় হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। প্রতিদিন চিকিৎসা বাবদ খরচ প্রায় ৮ হাজার টাকা। স্ত্রী কাকলী অসুস্থ হওয়ার পর থেকে নিজেও কাজ করতে পারছেন না বলে জানান এই অভিনেতা। পুরোটা সময় স্ত্রীর পাশেই থাকার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে নিজেদের জমানো টাকা ও সবার সহযোগিতা নিয়েই চলছে চিকিৎসা। প্রাণ রায় বলেন, ‘পরিবার, বন্ধুবান্ধব সবাই মিলে মোটামুটি সহযোগিতা করছে। অভিনয়শিল্পী সংঘ একবার সাহায্য করেছে, নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে। কাকলী স্ট্রোক করার আগে আমাদের গাড়িটি বিক্রি করেছিলাম, ওর সিনেমার কাজ শেষ করতে। কিন্তু অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় সেটা আর করা হয়নি। সেই অর্থ চিকিৎসার কাজে লেগেছে।’
প্রাণ রায় আরও জানান, শাহনেওয়াজ কাকলীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনা করা যায়নি। তাঁর অবস্থা আরও কিছুটা উন্নত হলে এ বিষয়ে চিন্তা করা হবে। সরকারের কাছে কোনো সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে প্রাণ রায় বলেন, ‘দেখুন, আমাদের সবার শেষ ভরসা সরকার। আমাদের ক্ষেত্রেও তাই। এ ছাড়া আমার স্ত্রী জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক। তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকে। যখন দেখব আর পারছি না, তখন হয়তো সরকারকে বলব। এখন পর্যন্ত আমি কোথাও জানাইনি।’
২০১২ সালে মুক্তি পায় শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘উত্তরের সুর’। দেশ বিদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয় সিনেমাটি। ওই বছর তিন বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছে উত্তরের সুর।