পাহাড়ঘেরা হিমাচলে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন চট্টগ্রামের একঝাঁক তরুণ শিক্ষার্থী। ভারতের সোলানে শুলিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত চতুর্থ মার্ভেল আন্তর্জাতিক মিডিয়া ফেস্টে অংশ নিয়ে তাঁরা বাংলাদেশকেই তুলে ধরেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আজকের পত্রিকার পাঠকবন্ধুর সদস্যরাও।
২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত এই উৎসবে বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
উৎসবজুড়ে ছিল ফটোগ্রাফি, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ, নিউজ অ্যাংকরিং, আবৃত্তি, রেডিও জকি, ক্যাপশন লেখা, ইনস্টাগ্রাম রিলস ও কুইজের মতো নানা প্রতিযোগিতা। ছিল থিয়েটার, স্ট্যান্ড-আপ কমেডি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও।
আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পাঠকবন্ধুর আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্য অর্ণব দাশ বলেন, ‘এই ধরনের আয়োজনে নিজের দেশের সংস্কৃতি ও পরিচয় অন্যদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, তাঁদের সংস্কৃতি জানা এবং নতুন কিছু শেখার সুযোগও তৈরি হয়।’
ভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সামনে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাস তুলে ধরার অভিজ্ঞতাটি ছিল অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের তরুণদের সঙ্গে কথা বলা এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ফুটে ওঠে গ্রামীণ জীবন, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের বিষয়। ‘তাকধুম তাকধুম বাজাই’ গানের মাধ্যমে শুরু হওয়া পরিবেশনায় ঢোলের ছন্দে গ্রামীণ জীবন ও লোকজ ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয়। এরপর ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, পূর্ব পাকিস্তানের বাস্তবতা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক নৃত্য ও অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
উৎসবের বিভিন্ন আয়োজনে গণমাধ্যমে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় তথ্য যাচাই ও দায়িত্বশীল যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরতে মিডিয়া ট্রুথ ল্যাব চালু করা হয়। তথ্যের উৎস যাচাই, ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করা এবং অনলাইনে দায়িত্বশীলভাবে তথ্য প্রকাশের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়াই ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য।