সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য বন্ধ এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিতের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা।
আজ রোববার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখা এবং দুপুর ২টায় রফিক ভবনের সামনে জকসুর উদ্যোগে পৃথক এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশ জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। যেখানে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ নিশ্চিত হবে। ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি ও বৈষম্য বন্ধ করে শিক্ষকসহ সব সরকারি নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রধান মানদণ্ড করার দাবি জানান তিনি।
সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, তরুণদের চাকরির বাজারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ সরকারকে দ্রুত নিরসনের করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা অধিকার রক্ষায় আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ সময় সরকারি চাকরিতে ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক হয়রানির প্রতিবাদে তিন দাবি উপস্থাপন করে ছাত্রশক্তি।
দাবিগুলো হলো-সরকারি চাকরিতে ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন ও দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ করা।, বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থার নামান্তর হিসেবে পুলিশ ভেরিফিকেশনকে হাতিয়ার বানানোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া, শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
এ দিকে ভাষা শহীদ রফিক ভবনে মানববন্ধনে দেশের আইন শৃঙ্খলা, এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়া, পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপের বিষয়ে প্রতিবাদ করেন জকসু নেতারা। হাসপাতাল ভাঙচুর, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে বলেও দাবি করেন তারা। দেশের বিভিন্ন জেলার দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর নিয়োগ বাতিলের কারণও দ্রুত প্রকাশের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে সরকার গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও পরবর্তীতে ভাইভা ও ভেরিফিকেশনের নামে নতুন করে নিয়োগ বাণিজ্যের চেষ্টা করা হয়েছে। ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে থাকা প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট করার করতে হবে।’
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘সরকারের শিক্ষা খাতে অযাচিত হস্তক্ষেপ; এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিকে ক্ষমতা দেওয়া, ভাইভায় অতিরিক্ত নম্বর এবং নতুন পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্ড চালুর মতো সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণের মতো বিষয় বিবেচনা করে কাউকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট করতে হবে।’
কর্মসূচিতে জকসু ও ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।