এ বছর দেশের সরকারি আলিয়া ও বেসরকারি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোতে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া মোট ৭০ দিন ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এসব মাদ্রাসায় সাপ্তাহিক ছুটি বাদে ছুটি ছিল ৫৯ দিন। সে হিসাবে চলতি বছর মাদ্রাসায় ছুটি বাড়ল ১১ দিন।
আজ মঙ্গলবার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এই ছুটির তালিকা প্রকাশ করে। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এর অনুমোদন দেয়।
অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক স্কুলে চলতি বছর ছুটি কমেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর এসব স্কুলে শিক্ষার্থীরা শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া ৭৬ দিন ছুটি পেলেও এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬ দিনে। অর্থাৎ স্কুলে ছুটি কমেছে ২০ দিন।
এদিকে সরকারি-বেসরকারি কলেজে ছুটি এক দিন বেড়েছে। গত বছর কলেজ শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া ৭১ দিন ছুটি কাটালেও চলতি বছর তা বাড়িয়ে ৭২ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছুটির তালিকায় ইবতেদায়ি ও দাখিল স্তরের পরীক্ষার সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ইবতেদায়ি ও দাখিল স্তরের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ২৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। দাখিলের নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১১ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত।
ইবতেদায়ি ও দাখিল স্তরের বার্ষিক পরীক্ষা এবং আলিমের নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৯ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
নতুন বছরে মাদ্রাসাগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া সর্বোচ্চ ৩০ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে পবিত্র রমজান, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জুমআতুল বিদা, লাইলাতুল কদর, ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে। এ ছুটি ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছুটি ১৫ দিনের; যা ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ হিসেবে ২৪ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত থাকবে। এ ছাড়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠানপ্রধানের জন্য সংরক্ষিত ছুটি থাকবে তিন দিন। এ ছুটি ভোগের ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করতে হবে।
সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন নির্ধারণ করায় প্রতিটি মাদ্রাসাকে যথাযথ পাঠপরিকল্পনা প্রণয়ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ছুটির তালিকায়।
তালিকায় আরও বলা হয়, হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বেড়ে যায়। এ কারণে হাওর অঞ্চলের মাদ্রাসার প্রধানেরা মোট ছুটি অপরিবর্তিত রেখে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি থেকে সমন্বয় করে সর্বোচ্চ ১০ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারবেন।
ছুটির তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, কোনো সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শন বা সংবর্ধনা উপলক্ষে মাদ্রাসা ছুটি দেওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ করা বা সংবর্ধিত ব্যক্তির সম্মানে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করানো নিষিদ্ধ।
এ ছাড়া পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস, বাংলা নববর্ষ, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসসহ অন্যান্য জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় বিভিন্ন আলোচনা ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র থাকলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় পরীক্ষার সময় বিকল্পব্যবস্থায় শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। কেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য মাদ্রাসায় কোনোভাবেই ক্লাস বন্ধ করা যাবে না। প্রয়োজনে জাতীয় দিবস ব্যতীত শনিবার বিশেষ বা অতিরিক্ত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগও রাখা হয়েছে।