ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে হাতে লেখা চিঠির চর্চা কমে এসেছে। সেই চিঠি লেখার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) প্রাঙ্গণে চিঠি উৎসব ও স্ট্যাম্প প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। আজ সোমবার দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের সাড়া ছিল উল্লেখযোগ্য। নির্ধারিত সময় পেরিয়েও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর কার্যক্রম চলেছে।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ঢাকা মেট্রোপলিটন সার্কেলের আয়োজনে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উৎসব ও প্রদর্শনী চলার কথা ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কারণে তা আরও কিছুক্ষণ চালু রাখা হয়।
বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়। প্রতিবছর ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হয়। তবে ওই দিন অন্য কর্মসূচি থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা সম্ভব হয়নি বলে জানান আয়োজকেরা।
উৎসবে এসে দীর্ঘদিন পর চিঠি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী তন্ময় তুহিন। তিনি বলেন, অনেক দিন পর হাতে লিখে চিঠি পাঠানোর অভিজ্ঞতা হলো তাঁর। ডিজিটাল মাধ্যমে মুহূর্তেই বার্তা পাঠানো গেলেও হাতে লেখা চিঠির অনুভূতি আলাদা। চিঠি লেখার মধ্য দিয়ে প্রিয়জনের প্রতি নিজের অনুভূতি ও আন্তরিকতা প্রকাশ করা যায়। দীর্ঘদিন পর চিঠিটি হাতে পেলে প্রাপকও সেই স্মৃতি ধরে রাখতে পারবেন।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের কর্মী মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, ‘এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে চিঠি লেখায় উৎসাহিত করা। আমরা এখন চিঠি লিখতে অনেকটাই ভুলে গেছি। চিঠি উৎসবের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ টিএসসিতে আসা মানুষকে বোঝাতে চেয়েছি, প্রিয়জনকে চিঠি লিখলে তিনি আনন্দিত হন। চিঠি একটি স্থায়ী দলিল, যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। অনেক দিন পর সেই চিঠি হাতে নিয়ে প্রিয়জনের কথা মনে করা যায়।’
আয়োজকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগের যুগে হাতে লেখা চিঠির চর্চা কমে এলেও এর আবেগ, স্মৃতি ও স্থায়িত্বের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে চিঠি লেখার আগ্রহ বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।