দেশের কিছু নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ও অফলাইন (সশরীরে) ক্লাস চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ বুধবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়’ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে নয়, বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আছে—সেসব স্কুলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালু করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত মডেলে সপ্তাহজুড়ে কিছুদিন অনলাইন এবং কিছুদিন অফলাইন ক্লাস থাকবে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে ট্রাফিক চাপ ও জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠক্রমের মধ্যেই থাকবে।
অনলাইন ক্লাস পরিচালনায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইনে মনোযোগী থাকে, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের ইতিহাসে নানা সংকট নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিক্ষাব্যবস্থাকে থামিয়ে না রেখে নতুন পদ্ধতিতে এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমান জ্বালানি সংকট, যানজট ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেও নতুনভাবে ভাবতে হবে। আমরা সবকিছু কেন হুমকি হিসেবে নেব? আমরা চাইলে এটাকে সুযোগ হিসেবেও নিতে পারি।’
ব্যক্তিগত গাড়িতে স্কুলে যাতায়াতে বিপুল জ্বালানি অপচয় হয় জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, রাজধানীতে অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত গাড়িতে স্কুলে যাতায়াত করে, যা প্রতিদিন বিপুল জ্বালানি অপচয় ও যানজট সৃষ্টি করে। করোনাকালে হঠাৎ করে অনলাইন শিক্ষায় যেতে হয়েছিল, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।
এ দিকে শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখতে সবার মতামত নেওয়া হবে বলে জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার মতামতের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের শিক্ষা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি. এম. আব্দুল হান্নান। তিনি বলেন, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনাও জাতীয় দায়িত্ব। তবে সংকট কাটাতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন—প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ আরও অনেকে।