পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। তবে নিজের আসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সঠিক তথ্য, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পিত প্রস্তুতি। ভর্তি পরীক্ষায় শুধু বেশি পড়লেই ভালো ফল করা যায় না। কী পড়তে হবে, কীভাবে পড়তে হবে এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করতে হবে, তা জানা জরুরি। কার্যকর প্রস্তুতির জন্য অনুসরণ করা যেতে পারে কয়েকটি কৌশল।
লক্ষ্যহীন পড়াশোনায় কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনে না। তাই প্রস্তুতির শুরুতে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন। এ ক্ষেত্রে স্মার্ট পদ্ধতি অনুসরণ করুন। অর্থাৎ লক্ষ্য হতে হবে সুনির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য, বাস্তবসম্মত, কার্যকর ও সময়োপযোগী।
শুধু ‘গণিত পড়ব’ বলার বদলে পরিকল্পনা করুন, আগামী দুই সপ্তাহে গণিতের ১৪টি অধ্যায় শেষ করবেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত একটি করে অধ্যায় পড়ুন। সপ্তাহ শেষে মডেল টেস্ট দিন। এমন পরিকল্পনা পড়াশোনাকে গোছানো ও গতিশীল করবে।
প্রথমে ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন। বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও অধ্যায় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সিলেবাসকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন। কোন অধ্যায়ে বেশি সময় দিতে হবে, কোনটি আগে পড়া প্রয়োজন, তা ঠিক করুন। এরপর নিজের দুর্বলতা ও প্রস্তুতির অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে রুটিন তৈরি করুন।
দিনের ২৪ ঘণ্টাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করুন। আইজেনহাওয়ার ম্যাট্রিকস অনুযায়ী কাজগুলোকে ভাগ করে নিন: জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন: মডেল টেস্ট দেওয়া, আগে সম্পন্ন করুন। গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাৎক্ষণিক নয়, এমন কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখুন। আর যেগুলো ‘জরুরি নয়, গুরুত্বপূর্ণও নয়’ যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট করার অভ্যাস কমিয়ে আনুন।
ভর্তি প্রস্তুতিকে একটি ক্রিকেট ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। টেস্ট ম্যাচের মতো এখানেও টিকে থাকার ধৈর্য থাকতে হবে। ম্যাচের আগে ক্রিকেটাররা যেমন পিচ বিশ্লেষণ করেন, আপনাকেও তেমনি পরীক্ষার কেন্দ্র, সময় ও প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করতে হবে। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। একটি মডেল টেস্ট খারাপ হওয়া মানেই সব শেষ নয়। ভুল শুধরে পরের ধাপে এগিয়ে যাওয়াই হলো আসল কাজ।
একটানা পড়াশোনার ফলে অনেক সময় বইয়ের প্রতি অনীহা বা ‘রিডিং ব্লক’ আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সহজ কোনো টপিক বা পছন্দের বিষয় দিয়ে পড়া শুরু করুন। পরীক্ষার হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বাড়িতে ঘড়ি ধরে নিয়মিত মডেল টেস্ট দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন। ভালো ঘুম স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং প্রোডাকটিভিটি বাড়ায়, তাই প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা পরিমিত ঘুম নিশ্চিত করুন। ফাস্ট ফুড পরিহার করে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন এবং প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করুন।
ভর্তি পরীক্ষা মূলত মেধা ও স্নায়ুর পরীক্ষা। হাজারো শিক্ষার্থীর ভিড়ে নিজেকে আলাদা করতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং অটুট আত্মবিশ্বাস।