মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রয়োগ ও অভিযান যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সরকারি নীতি, শিক্ষায় নৈতিকতার চর্চা, অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আজ শুক্রবার ঢাকায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক আন্দোলন’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিরোধী দল হিসেবে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের বিতার্কিকেরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়ী হয়। পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের প্রতিনিধিদের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন প্রধান অতিথি ববি হাজ্জাজ।
মাদক সমস্যার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তরুণদের অপরাধের ঝুঁকিতে ঠেলে দিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের শহরমুখী প্রবণতা এবং বস্তি এলাকায় সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগও এ সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে নৈতিক শিক্ষার চর্চা আরও কার্যকর করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষা ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ববি হাজ্জাজ বলেন, মাদকসংক্রান্ত অপরাধের কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে জব্দ করা মাদকের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ ও দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া জরুরি। পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিতে হবে। মাদক সমস্যার সমাধানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, তরুণ প্রজন্ম মাদকে আসক্ত না হয়ে লেখাপড়া ও গবেষণায় মনোযোগী হোক। তারা রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করুক, সেটিই প্রত্যাশা।