শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) হোস্টেল রয়েছে পাঁচটি। এসব হোস্টেলের আয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ করা হয়নি স্টক রেজিস্টার, বিল-ভাউচার। গত পাঁচ অর্থবছরে (২০২১–২২ থেকে ২০২৫–২৬) আয়ের ৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এটি ছাড়াও জমির ভাড়া না পাওয়া এবং কেনাকাটা ও গাড়িভাড়ায় অনিয়মের তথ্য পেয়েছে।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের আট কর্মকর্তা গত ১৯ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তদন্ত চালিয়ে করা প্রতিবেদনে ওপরের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের তদন্ত প্রতিবেদনটি গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মো. আফলাতুন গতকাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় বিধিমোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।’
তবে নায়েমের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক অধিদপ্তরের প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। গতকাল আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘এখনো প্রতিবেদনটি হাতে পাইনি। তাই এখনই কোনো মন্তব্য করব না।’
১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মূল কাজ শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য বুনিয়াদি কোর্স, উচ্চতর প্রশিক্ষণ, প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিভিন্ন কোর্স পরিচালনা করা।
নায়েমের পাঁচটি হোস্টেলের সর্বমোট সিট সংখ্যা ৫৫২টি। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, গত পাঁচ অর্থবছরে (২০২১–২২ থেকে ২০২৫–২৬) এসব হোস্টেলের বিভিন্ন কোর্স বাবদ ১২ কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭ টাকা আয় হয়েছে। আর ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫৬ টাকা। তবে আয় ও ব্যয়ের কোনো স্টক রেজিস্টার কিংবা বিল-ভাউচার নিরীক্ষা দলকে দেখানো হয়নি।
প্রতিবেদনে আয় ও ব্যয়ের পর অবশিষ্ট ৩ কোটি ২০ লাখ ১৫ হাজার ৩৬১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নায়েমের হোস্টেলের প্রকৃতপক্ষে আয় যেমন পুরোটা প্রদর্শিত হয়নি, ব্যয়ও স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নায়েমের জমিতে তৈরি স্থাপনার (ক্যাফেটেরিয়া, লন্ড্রি, সেলুন, মনোহারী দোকান) ভাড়া নেয় নায়েম কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি। এখন গত ১১ বছরের ভাড়া বাবদ জমা ৩২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকাসহ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
প্রতিবেদনে ইনডাকশন ট্রেনিং কোর্সের গাড়িভাড়ায় নানা অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, অফিস অ্যাটাচমেন্ট ৪০ জন ও কোর্স পরিচালক ৩ জনের জন্য একদিনেই ১২টি গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৯৬ হাজার টাকা। প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে, এমন ব্যয় অস্বাভাবিক। ইনডাকশন ট্রেনিং কোর্সের ব্যয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক বিধিবিধান ও পিপিআর অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নায়েমে সরকারি বরাদ্দ ব্যয়ের ক্ষেত্রে পিপিআর যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারই সব ধরনের (পণ্য সংগ্রহ, পূর্তকাজ) কাজ করে থাকেন।
প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণের নামে অর্থ ও সময়ের অপচয় করার কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নায়েমে বর্তমানে ২৬ ধরনের প্রশিক্ষণের মডিউল ও টপিক রয়েছে। মডিউলগুলোর মধ্যে ফারাক বিস্তর। এগুলো প্রত্যেক প্রশিক্ষণের জন্য সুচিন্তিতভাবে নেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে নায়েমকে ঢাকা শহরের বাইরে স্থানান্তরেরও সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নায়েমের বিদ্যমান কার্যক্রম ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার বাইরে একটি অধিকতর উপযোগী, প্রশস্ত ও পরিকল্পিত স্থানে এর সম্প্রসারণ বা স্থানান্তর করা প্রয়োজন।