হোম > শিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষা ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রাথমিক শিক্ষাকে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে তা অবৈতনিক করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ এবং তা অবৈতনিক।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আজ বুধবার শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতের বাজেট, মানোন্নয়ন ও কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৪ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক গ্রেড বাড়িয়ে অষ্টম পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। এটা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। মিডডে মিল, ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন উদ্যোগ সকল শিক্ষার্থীর জন্যই প্রযোজ্য হবে। তবে একসঙ্গে সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ‘১ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য একদিনে কিছু করা সম্ভব না। আমরা ধাপে ধাপে- এক লাখ, পাঁচ লাখ, দশ লাখ- এভাবে সবাইকে কাভার করব।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্যারিয়ারমুখী করতে চায়। শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক, মাধ্যমিক বা উচ্চশিক্ষা- যে স্তরেই শেষ করুক না কেন, যেন তাদের জন্য কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের প্রস্তুতি থাকে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা হবে স্কিলভিত্তিক (দক্ষতাভিত্তিক)। একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষে যেন তার জীবিকার জন্য প্রস্তুত থাকে।’

শিক্ষা খাতের বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক স্কুলে মৌলিক নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘৬৫ হাজারের বেশি স্কুলে অনেক জায়গায় গার্ড নেই, ক্লিনার নেই। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম দিলেও সেগুলো রক্ষা করা যায় না, চুরি হয়ে যায়।’ স্কুলের জমি দখল, অব্যবহৃত সরঞ্জাম ও পরিকল্পনাহীন প্রকল্প গ্রহণের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের স্কুলে ধরে রাখতে আর্থিক প্রণোদনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য নগদ সহায়তা, মিডডে মিল ও অন্যান্য সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক পরিবারে শিশুদের কাজ করতে পাঠানোর বাস্তবতা আছে। তাদের স্কুলে আনতে হলে ইনসেনটিভ দিতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক সংকট ও নিয়োগ জটিলতার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, হাজার হাজার শিক্ষক নিয়োগ মামলা জটিলতায় আটকে আছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন। শুধু নীতিমালা করলেই হবে না, চার লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীকে সেই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।’

প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনন্দময় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি জানান, ‘খেলতে খেলতে শেখা এবং গল্পের মাধ্যমে শেখা- এই দুই পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম সাজানো হবে।’ দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতাকে একটি বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ২৫-২৭ ধরনের শিক্ষা ধারা রয়েছে। সমস্যা সংখ্যা না, সমস্যা হলো এদের মধ্যে সমন্বয় নেই। এক ধারা থেকে আরেক ধারায় যাওয়া কঠিন।’

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই, সূচি প্রকাশ

প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করা হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

জ্বালানি সাশ্রয়ে জবিতে সপ্তাহে এক দিন অনলাইন ক্লাস

ইংরেজিতে ভালো করতে করণীয়

এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ২৫ হাজার শিক্ষার্থী, বহিষ্কার ৬

জবির চার ইউনিটে শূন্য আসনে কাল উন্মুক্ত ভর্তি

সাইবার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রস্তুতি আছে: শিক্ষামন্ত্রী

‎বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ: মৌখিক পরীক্ষায় যেভাবে ব্যবহার হবে এআই

ইস্পাহানি-সিআইইউ স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬ অনুষ্ঠিত

শুরু হলো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী