উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। নতুন দেশে পা রাখার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিকতা, ব্যাংক হিসাব খোলা, যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা কিংবা স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জানা—এসব বিষয় নতুন পরিবেশে সহজে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে।
অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি ৭টি কাজ তুলে ধরা হলো—
অস্ট্রেলিয়ায় পা রাখার পরই আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি ও নিবন্ধন-সংক্রান্ত কাজগুলো সম্পন্ন করুন। ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রমে অংশ নিলে ক্যাম্পাসের সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষার্থী সহায়তা সেবা এবং শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পাশাপাশি আগমনের সাত দিনের মধ্যে নিজের আবাসিক ঠিকানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জানাতে হবে। জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষার্থী নীতিমালা ও সহায়তামূলক সেবাগুলো সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া প্রয়োজন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ: এসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় থাকে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা সময়মতো পাওয়া যায়।
দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন সহজ করতে যত দ্রুত সম্ভব একটি অস্ট্রেলিয়ান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন। এতে অর্থ নিরাপদে জমা রাখা যায় এবং বেশি পরিমাণ নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যাংকিং সুবিধা, অনলাইন ব্যাংকিং এবং বিভিন্ন পেমেন্ট অ্যাপের সঙ্গে হিসাব সংযুক্ত করে লেনদেন আরও সহজ করা যায়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ: ভাড়া পরিশোধ, বেতন পরিশোধ এবং দৈনন্দিন খরচ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় ব্যাংক হিসাব অত্যন্ত কার্যকর।
নতুন দেশে যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই স্থানীয় সিম কার্ড বা মোবাইল প্ল্যান সংগ্রহ করুন। এতে কল, বার্তা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ, চাকরির তথ্য কিংবা জরুরি বার্তা পাওয়ার জন্যও স্থানীয় নম্বর প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাও সহজ হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ: নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা শিক্ষাজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য অপরিহার্য।
অস্ট্রেলিয়ার বেশির ভাগ শহরে উন্নত গণপরিবহনব্যবস্থা রয়েছে। তাই বাস, ট্রেন ও ফেরি ব্যবহারের নিয়মকানুন সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।
শহরভেদে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। যেমন সিডনিতে ওপাল কার্ড এবং পার্থে স্মার্টরাইডার কার্ড ব্যবহৃত হয়। যাতায়াত পরিকল্পনার জন্য বিভিন্ন পরিবহন অ্যাপও কাজে লাগতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ: গণপরিবহন সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর যাতায়াত মাধ্যম।
শিক্ষাজীবনের সফল সূচনার জন্য কোর্স কাঠামো, বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনীয়তা, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অ্যাসাইনমেন্টের সময়সীমা সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নিন। প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ করুন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এবং লাইব্রেরি সেবার সঙ্গে পরিচিত হয়ে নিন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ: আগাম প্রস্তুতি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত থাকতে সাহায্য করে।
আবাসন, খাবার, যাতায়াত, ব্যক্তিগত ব্যয়সহ মাসিক বাজেট তৈরি করুন। এতে খরচ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। যাঁরা খণ্ডকালীন কাজ করতে চান, তাঁরা পড়াশোনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরির সুযোগ খুঁজতে পারেন। কাজ করার পরিকল্পনা থাকলে ট্যাক্স ফাইল নম্বর (টিএফএন) সংগ্রহ করা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ান বিজনেস নম্বর (এবিএন) লাগতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ: সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা শিক্ষার্থীদের চাপ কমায় এবং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনে সহায়তা করে।
বসবাসের এলাকার কাছাকাছি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও চিকিৎসা-সুবিধা সম্পর্কে জেনে রাখুন। জরুরি পরিস্থিতিতে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে, সেটিও জানা প্রয়োজন।
শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে জিম, খেলাধুলা বা অন্যান্য বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন। প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণেও দ্বিধা করবেন না।
সুস্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা শিক্ষাজীবনে সাফল্য এবং বিদেশে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার অন্যতম ভিত্তি।
তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস