ফিলিপাইনে ১২ বছর ধরে ব্যবসা করছেন ওয়ালিউল ইসলাম সাহেল। হালাল ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন তিনি। ম্যানিলার বিখ্যাত দ্য বিরিয়ানি স্টোরি ও তাকওয়া হালাল মার্টের স্বত্বাধিকারী। এ ছাড়া বাংলাদেশ, চীন ও ভিয়েতনাম থেকে গার্মেন্ট আমদানি করেন।
উত্তর: বাংলাদেশি হিসেবে গার্মেন্ট, ফুডস ট্রেডিং ও কল সেন্টারের ব্যবসায় ভালো করার সুযোগ আছে। তবে উদ্যোক্তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকলে এখানে ব্যবসা করা অনেক চ্যালেঞ্জিং।
উত্তর: ফিলিপাইনের পড়াশোনার মান ভালো। তবে উন্নত দেশগুলোর মতো খণ্ডকালীন কাজ করে আয় করার সুযোগ এখানে নেই। একটা সুবিধা অবশ্য চোখে পড়ে। এখান থেকে উন্নত দেশে ভিসার জন্য আবেদন করলে বাংলাদেশের তুলনায় ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
বাংলাদেশিদের জন্য এখানে কয়েক ধরনের বৃত্তি রয়েছে। এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে এডিবি-জাপানের অর্থায়নে মাস্টার্স প্রোগ্রামে শতভাগ বৃত্তি দেওয়া হয়। এআইএম ইনস্টিটিউশনাল বৃত্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ বা আংশিক বৃত্তিও দিয়ে থাকে। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব দ্য ফিলিপাইনস আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়।
এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বাংলাদেশের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ভালো। কেউ ইউরোপ বা অন্য কোনো উন্নত দেশের ভিসা না পেলে এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হলে এখানে এসে পড়তে পারেন। কারণ বাংলাদেশিদের জন্য এখান থেকে উন্নত দেশে মাইগ্রেট করা সহজ।
উত্তর: ফিলিপাইন মূলত একটি ঔপনিবেশিক দেশ। একসময় এটি স্প্যানিশ, জাপানি ও আমেরিকানদের কলোনি ছিল। ফলে এখানে স্প্যানিশ ও ইংরেজি দুই ভাষারই প্রচলন রয়েছে। বিশ্বে আমেরিকার প্রভাব বেশি হওয়ায় এখানকার মানুষ ইংরেজি বেশি শেখে। স্কুলেও ইংরেজি পড়ানো হয়। ইংরেজি জানলে এখানে এক সেকেন্ডের জন্যও যোগাযোগের সমস্যায় পড়তে হয় না। যেকোনো স্তরের মানুষ সাবলীলভাবে ইংরেজি বলে। তা ছাড়া ফিলিপিনো ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। তারা ইংরেজি বর্ণমালাই ব্যবহার করে। এটিও তাদের ইংরেজিতে দক্ষ হতে সাহায্য করেছে। জানলে অবাক হবেন, নন-নেটিভ ইংলিশ স্পিকারদের
তালিকায় ফিলিপাইনের মানুষ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
উত্তর: মান বিচার করলে ফিলিপাইন ভালো উন্নত দেশ। ওদের অনেক শহরে গেলে মনে হবে না ফিলিপাইনে আছেন, মনে হবে ইউরোপে আছেন।
উত্তর: ব্যবসা ও ভ্রমণের সুবাদে আমি ২১টি দেশে গিয়েছি। আমার মনে হয়েছে, আসিয়ান একটি বিজনেস হাব। তবে আগে ব্যবসা শিখে আসতে হবে, তাহলেই এখানকার সুযোগ কাজে লাগানো যাবে। বাংলাদেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুল করে ব্যবসা করতে গিয়ে। অনেকে ভাবেন, অমুক যদি পারে, আমি আরও ভালো পারব। কিন্তু তার চেয়ে নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বেশি কি না, তা যাচাই করেন না। না বুঝে ব্যবসা শুরু করে অনেকে ধরা খান। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে ব্যবসার যথেষ্ট সুযোগ আছে। মালয়েশিয়ায় এখন বাংলাদেশির সংখ্যা অনেক বেশি, তাই অন্য দেশগুলোতেও চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। তবে যে দেশে ব্যবসা করতে চান, সেখানে কয়েকবার ঘুরে নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শুরু করা উচিত।
উত্তর: প্রধানত গার্মেন্টস, রেস্টুরেন্ট ও কল সেন্টারে কাজ করেন। এর বাইরে ব্যাংকিং খাত ও বহুজাতিক কোম্পানিতেও অনেক উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী কাজ করছেন। অনেকে শিক্ষকতাও করছেন।
উত্তর: রাজধানী ম্যানিলাতেই বেশির ভাগ বাংলাদেশি বসবাস করেন। অন্য শহরেও আছেন, তবে সংখ্যায় কম।
উত্তর: স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া সহজ। এ ভিসায় এখন প্রচুর বাংলাদেশি আসছেন। তবে ফ্রেশ পাসপোর্টে ভিসা পাওয়া একটু কঠিন। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা অবশ্য ফ্রেশ পাসপোর্টেও ভিসা পাচ্ছেন এবং ফিলিপাইনে আসছেন।