রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের তিন দিন পরও জমা হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। শুনেছি প্রতিবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছি। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা হতে মধ্যরাত বা শেষ রাত হতে পারে। যদি মধ্যরাত পেরিয়ে যায়, তাহলে আগামীকাল প্রতিবেদনের সুপারিশ প্রকাশ করা হবে। এরপর আমরা কাল অফিস খুলে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ ঘোষণা করব।’
তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এর আগে, গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে আজ সন্ধ্যার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশ্বাস দেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম। উপাচার্যের দেওয়া ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা আজ রাতে শেষ হওয়ার কথা।
এ সময় সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হামলার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দেন উপাচার্য। বর্তমানে হলটির আবাসিক শিক্ষক মো. মতিউর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনিক কার্যক্রমে অভিজ্ঞ কাউকে প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। এতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে ক্যাম্পাসের সাংবাদিক ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। সাংবাদিকদের অন্যতম দাবি ছিল হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের নামে মামলা করা। পাশাপাশি আজ সন্ধ্যার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে রাতেই জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে জড়িত ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ও পড়াশোনা শেষ করা ব্যক্তিদের সনদ বাতিলের দাবি জানানো হয়। উপাচার্য এসব দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
গত রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ছাত্রদলের ১০ থেকে ১২ জন নেতা-কর্মী জড়িত ছিলেন। আহত সাংবাদিকেরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।