মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যেকোনো দেশের ওপর বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটিতে বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমনের কারণে তেহরান সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইরানে কাজ করা বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও এনজিওর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিক্ষোভে প্রায় ৬০০ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। এমনকি কিছু প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়াতে পারে বলেও ধারণা দেওয়া হয়েছে। তবে ইরান সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে হতাহতের কোনো তথ্য প্রকাশ না করায় নিহতের সংখ্যা আসলে কত, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ভারত, চীনসহ বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্যিক সম্পর্কগুলোকে ব্যাহত করতে পারে, যারা ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।
নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ‘যেসব দেশই ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের করা যেকোনো ব্যবসার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এই আদেশ চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
বিক্ষোভ ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের কথা ট্রাম্প যখন বিবেচনা করছেন, ঠিক তখনই এই শুল্কের ঘোষণা এল। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত সোমবার বলেছেন, ‘বিমান হামলা হতে পারে এমন অনেক বিকল্পের মধ্যে একটি, যা আমাদের টেবিলে রয়েছে।’
তিনি এ-ও বলেন, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মাধ্যমে ইরানের জন্য একটি কূটনৈতিক পথ খোলা রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান জনসমক্ষে যা বলছে, ব্যক্তিগতভাবে তারা তার চেয়ে অনেক ভিন্ন সুরে কথা বলছে।
যদিও চীনকে ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে এই পদক্ষেপ ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তুরস্ককেও প্রভাবিত করবে, যারা তেহরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ইরানে ১ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং শূন্য দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার ফলে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ছিল ৫১২ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের জৈব রাসায়নিক পণ্য, এরপর ৩১১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারের ফল, বাদাম ও সাইট্রাস ফলের খোসা এবং ৮৬ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলারের খনিজ জ্বালানি ও তেল।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। এই অতিরিক্ত শুল্ক বাণিজ্যকে আরও বাধাগ্রস্ত করবে। কারণ, উভয় পক্ষই মাসের পর মাস ধরে এমন একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে, যা নয়াদিল্লিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শুল্কছাড় প্রদান করবে।
তবে এই হুমকির ওপর ঝুলে আছে ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের বৈধতা নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি আসন্ন সিদ্ধান্ত। যদি বিচারপতিরা তাঁর বিরুদ্ধে রায় দেন, তবে ইরানের অংশীদারদের ওপর দ্রুত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা তাঁর সীমিত হয়ে যেতে পারে। আদালতের পরবর্তী রায়ের দিন বুধবার।