জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এই শহরের প্রথম মুসলিম এবং কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়লেন। আজ বৃহস্পতিবার পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।
স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে (১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার) ম্যানহাটনের এক ঐতিহাসিক ও পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা জোহরান মামদানি শপথ নেন। শপথ গ্রহণের সময় তিনি পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রাখেন। মামদানি বলেন, ‘এটি সত্যিই এক পরম সম্মান এবং আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ এক সুযোগ।’
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিয়া জেমস। তিনি মামদানির রাজনৈতিক মিত্র। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় পুরোনো ‘সিটি হল স্টেশনে’, যা মূলত শহরের প্রাচীনতম সাবওয়ে স্টেশনগুলোর একটি এবং এর চমৎকার খিলানযুক্ত ছাদের জন্য পরিচিত।
আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১টায় নিউইয়র্ক সিটি হলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি আবারও শপথ নেবেন। এবার তাঁকে শপথ পড়াবেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, যিনি নবনির্বাচিত মেয়রের রাজনৈতিক আদর্শিক গুরুদের একজন। এরপর ব্রডওয়ের সেই বিখ্যাত ‘ক্যানিয়ন অব হিরোসে’ একটি পাবলিক ব্লক পার্টির আয়োজন করা হয়েছে, যা সাধারণত ‘টিকার-টেপ প্যারেডের’ জন্য জনপ্রিয়।
মামদানি এখন মার্কিন রাজনীতির অন্যতম কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ এক দায়িত্ব পালন শুরু করতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে আলোচিত রাজনীতিবিদদের একজন। শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র হওয়ার পাশাপাশি মামদানি প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম মেয়র। ৩৪ বছর বয়সে তিনি নিউইয়র্কের কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়রের গৌরব অর্জন করলেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ‘সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা’ বা ‘অ্যাফোর্ডবিলিটি’ শব্দটিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ জনপ্রিয় করে তোলেন। এই গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই শহরের জীবনযাত্রার খরচ কমাতে তিনি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবেন।
তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল বিনা মূল্যে শিশু যত্ন (চাইল্ড কেয়ার), বিনা মূল্যে বাস সেবা, প্রায় ১০ লাখ পরিবারের জন্য বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করা এবং পরীক্ষামূলকভাবে শহর কর্তৃপক্ষের পরিচালনায় গ্রোসারি শপ চালু করা। তবে বিশাল সব পরিকল্পনার পাশাপাশি তাঁকে দৈনন্দিন ঝক্কিও সামলাতে হবে—আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, তুষারপাত কিংবা ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ। সেই সঙ্গে সাবওয়ে বা পাতাল রেলের বিলম্ব কিংবা রাস্তার খানাখন্দের জন্য মানুষের দায়ভার তো নিতেই হবে।
উগান্ডার কাম্পালায় মামদানির জন্ম। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং শিক্ষাবিদ ও লেখক মাহমুদ মামদানির সন্তান। তাঁর বয়স যখন সাত বছর, তখন তাঁর পরিবার নিউইয়র্ক শহরে চলে আসে। নাইন-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে মুসলিমদের জন্য প্রতিকূল এক পরিবেশের মধ্যেই তিনি বড় হয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।