ইউএনওর বৈঠক শেষে গ্রেপ্তার সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুস শহীদ জামিনে মুক্ত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পুলিশ ১৫১ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁকে আদালতে পাঠিয়েছিল। এই ধারায় পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তারের বিধান রয়েছে। আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন।’
এর আগে গতকাল বুধবার জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে জনপ্রতিনিধিদের জরুরি সভা হয়। সভা শেষে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদকে ‘মব’ করে সমন্বয়ক পরিচয়ে কয়েকজন যুবক হেনস্তা করেন এবং আটক করে থানায় সোপর্দ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদকে মব সৃষ্টি করে সমন্বয়ক পরিচয়ে জাফর আহমদসহ কয়েকজন যুবক হেনস্তা করেন এবং আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর মানিকপুর ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা পরিষদ এলাকায় জড়ো হন। তাঁরা জাফর আহমদসহ কয়েকজনকে সামনে পেয়ে ধাওয়া দিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এ সময় জাফর আহমদকে (সমন্বয়ক) মারধরের ঘটনাও ঘটে। সন্ধ্যা থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরিস্থিতির অবনতি হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে ইউএনও দফায় দফায় বৈঠক করেন।
বৈঠকের মধ্যেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও সমন্বয়ক পরিচয়ধারী জাফরকে টানাহেঁচড়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে পুলিশ জাফর আহমদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে নিরাপদে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়।
জানতে চাইলে উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান বলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আবদুস শহীদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাও নন এবং জকিগঞ্জ থানার কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও নন। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাঁকে দলীয় ট্যাগ দিয়ে মব সৃষ্টি করে ধরিয়ে দেওয়া ন্যক্কারজনক।’
অপর দিকে সমন্বয়ক পরিচয়ধারী জাফর আহমদ বলেন, ‘শহীদ আমার দায়ের করা মামলার আসামি। তা ছাড়া পুলিশের ডেভিলদের তালিকায়ও তার নাম ছিল। আমি একজন গেজেটেড জুলাই যোদ্ধাও। সেখানে পুলিশ এবং ইউএনওর সামনেই তারা আমাকে মারধর করে। আমি এখন সিলেট শহরে চিকিৎসাধীন।’
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, আবদুস শহীদকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাঁর কোনো দলীয় পদ-পদবির তথ্যও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৫১ ধারায় তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘গতকাল রাতে এই ঝামেলা হয়েছিল। তখন আমি উপজেলা পরিষদে ছিলাম না। পরে এসে দেখি এটা। সবাইকে নিয়ে বসে আমরা সমাধানের চেষ্টা করি। এখন এটা আইনের গতিতে চলবে, আর কেউ কোনো ঝামেলা করবে না।’
এদিকে জামিনে মুক্তির পর সন্ধ্যায় ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুস শহীদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, জামিন পেয়ে বাড়িতে পৌঁছেছি। তবে ঘটনার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।