আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের নির্বাচন আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচনের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)।
গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ১১টায় বিভিন্ন আবাসিক হল ও মেসের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে গোলচত্বরে জড়ো হন। পরে মিছিল নিয়ে শাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। গতকাল রাত দেড়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল।
বিক্ষোভের সময়ে শিক্ষার্থীরা ‘শাকসু নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না’; ‘২০ তারিখে শাকসু, দিতে হবে দিতে হবে’; ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’; ‘অবৈধ সিদ্ধান্ত, মানি না মানব না’; ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’; ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও লড়াই করো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ ছিল। এখন তাঁদের অধিকার আদায়ের সময়। এখন জাতীয় নির্বাচনের অজুহাতে আবার নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত তাঁরা বর্জন করেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিনিধিত্ব চাই, এটা আমাদের মৌলিক অধিকার। জাতীয় নির্বাচনের দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচন আবারও বন্ধের এই ষড়যন্ত্র আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। প্রশাসনকে অবশ্যই এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে, অন্যথায় আমরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে ঘরে ফিরব না।’
বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে ইসির এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা সহ্য করা হবে না। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে শাবিপ্রবি থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এ বিষয়ে শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ইসির এই প্রজ্ঞাপন যদি সঠিক হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়ে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করা লাগতে পারে।