মাগুরার মহম্মদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ওই ইউপি সদস্যের নাম ইসমাইল মৃধা (৫০)। তিনি উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। এবার তিনি ইউপি সদস্য হিসেবে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।
আজ সোমবার সকালে মাগুরা সদর থানার আলমখালী এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ওই উপজেলার পারুয়ারকুল গ্রামের মৃত আওয়াল মৃধার ছেলে। যৌন হয়রানির শিকার কিশোরী (১৪) স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
ভুক্তভোগীর মা জানান, ইসমাইল মেম্বার কয়েক দিন আগে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে জানান, স্কুলের মেয়েদের ভাতার কার্ড তৈরির দায়িত্ব সরকার এবার তাঁকে দিয়েছে। কিন্তু কার্ড করতে হলে মেডিকেল সার্টিফিকেট লাগবে। যে কারণে মেয়েকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এসব ভুল তথ্য দিয়ে ইসমাইল মেম্বার রোববার সকালে মেয়ের সঙ্গে তাঁকে মোটরসাইকেলে চড়িয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে পৌঁছে মেম্বার তাঁকে (মা) টিকিট কাউন্টারের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন বলে মেয়েকে নিয়ে যান। কিন্তু ইসমাইল মৃধা হাসপাতালে চিকিৎসকদের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরিয়ে এখানে ডাক্তার নেই, অন্যত্র যেতে হবে বলে মেয়েটিকে জানান। সেখান থেকে তাকে রিকশায় উঠিয়ে শহরের একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
এ সময় সে চিৎকার দিলে ইসমাইল মৃধা মেয়েটিকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে নিজে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর মেয়েটি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রক্ষা পায়। এরপর হাসপাতালে পৌঁছে মায়ের কাছে বিস্তারিত জানায় সে। মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে তার মা হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সোমবার তিনি মাগুরা সদর থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ইসমাইল মৃধাকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী মেয়েটির মা বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় ইসমাইল মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।