বাংলাদেশের একটি মেডিকেল কলেজে ভর্তির কথা বলে কাশ্মীরি এক পরিবারের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা করেছে একটি চক্র। এই অভিযোগে চারজনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কাশ্মীর থেকে প্রকাশিত ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য রাইজিং কাশ্মীরের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
খবরে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাশ্মীর শাখার ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (ইওডব্লিউ) এফআইআর নম্বর-২০/২০২৫-এর চার্জশিট দাখিল করেছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ ও ১২০-বি ধারায় এই মামলা করা হয়েছে। প্রতারণা ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চার অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে শ্রীনগরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।
একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়, অভিযোগকারীকে তাঁর আত্মীয় পীরজাদা আবিদ, পিতা পীরজাদা মোহাম্মদ নাঈম, বাসিন্দা বিজবেহারা, বর্তমানে আজাদ বস্তি নাটিপোরা, শ্রীনগর—পরিচয় করিয়ে দেন সায়েদ ওয়াসিমের সঙ্গে। সায়েদ ওয়াসিম, পিতা সায়েদ বশির আহমদ, বাসিন্দা করিমাবাদ পুলওয়ামা, বর্তমানে আজাদ বস্তি নাটিপোরা, শ্রীনগরের বাসিন্দা। তিনি এম/এস ইউরোপ কনসালট্যান্সি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী। তাঁরা অভিযোগকারীকে আশ্বাস দেন, তাঁর ছেলেকে বাংলাদেশের একটি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হবে।
এরপর অভিযোগকারীকে আরও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় সায়েদ সুহাইল আইজাজ, পিতা সায়েদ আইজাজ কাদরি, বাসিন্দা তাকিয়া মাগাম কোকেরনাগ, বর্তমানে মুসলিম আবাদ, নুন্দরেশ কলোনির বিপরীতে, বেমিনা এবং জাইগাম খান, পিতা গুলাম মোহাম্মদ খান, বাসিন্দা মাহমদিয়া কলোনি, বেমিনা, শ্রীনগর—এই দুজনের সঙ্গে। তাঁরা ওভারসিজ কনসালট্যান্সির মালিক।
তাঁদের আশ্বাসের ভিত্তিতে অভিযোগকারী লাখ লাখ টাকা ফি হিসেবে পরিশোধ করেন। বলা হয়েছিল, এই অর্থ পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজে জমা দেওয়া হবে। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রতারণার মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা নেন। কিন্তু কলেজে জমা দেন মাত্র ৮ হাজার মার্কিন ডলার। ২০২১ সালের বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার টাকা। বাকি টাকা জমা না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে কলেজ ছাড়তে বলা হয়।
ব্যাংক রেকর্ড, মেডিকেল কলেজের সরকারি যোগাযোগপত্র এবং তদন্তে রেকর্ড করা সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে চার অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন পীরজাদা আবিদ; সায়েদ ওয়াসিম, স্বত্বাধিকারী, এম/এস ইউরোপ কনসালট্যান্সি সেন্টার; সায়েদ সুহাইল আইজাজ এবং জাইগাম খান, মালিক, ওভারসিজ কনসালট্যান্সি।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তদন্তপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।