মহামারির মধ্যে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে। এই এলাকার ইয়ার্ডলি গ্রিন অ্যালোটমেন্টে বেশ কয়েকটি কৃষি প্লট রয়েছে। এগুলো মূলত বয়স্ক এবং পেনশনভোগীদের মালিকানাধীন। অনেকে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে প্লটে চাষাবাদ করে আসছেন।
এসব প্লটে গত বছরের জুন থেকেই একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। চুরি যাচ্ছে মূলত বাংলাদেশি ডাটা শাক। দেশের দক্ষিণ–পশ্চিম ও উত্তর–পূর্ব অঞ্চলে এই সবজিকে বলে ডেঙ্গা। যুক্তরাজ্যে সিলেটিদের আধিক্য থাকায় এই ডাটা শাক সেখানে ডেঙ্গা নামেই সমধিক পরিচিত। বাংলাদেশি ডিশ হিসেবে জনপ্রিয়ও বেশ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বার্মিংহাম মেইলের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিক পর্যন্ত অন্তত ৮০ কেজি ডাটা শাক বাগান থেকে চুরি গেছে। শুধু তাই নয়, বর্ডেসলি গ্রিন এলাকা থেকে চুরি গেছে ৩ হাজার পাউন্ড সমমূল্যের কৃষি যন্ত্রপাতি। চুরি ঠেকাতে প্লটের মালিকেরা এখন সবজি বাগান পাহারা দিতে শুরু করেছেন।
ব্রিটেনের বার্মিংহামে সাধারণত বড় জাতের ডাটা শাক চাষ করা হয়। এক একটি ডাটা শাকের উচ্চতা ৩০ ফুট পর্যন্ত হয়। এগুলো চাষ করা হয় গ্রিন হাউসে। চারা রোপণের তিন মাস পর ফসল সংগ্রহ করা হয়। গ্রিন হাউসে চাষ করলে এই সবজি বেশ নরম ও সুস্বাদু হয়।
একজন সবজি চাষি জানান, অ্যালটমেন্ট কাউন্সিল কমিটির সিদ্ধান্তে তাঁরা গত ২৩ জুলাই চোরকে হাতেনাতে ধরতে রাতভর পাহারা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, গত দুই মাস যাবৎ এখানে চুরি বেড়েছে। এখানে চাষিদের জন্য এটা বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ তাঁরা এই বাগানের পেছনে প্রচুর শ্রম ও সময় ব্যয় করেন।
বর্ডেসলি গ্রিন নেইবারহুড পুলিশিং টিমের সার্জেন্ট মার্ক প্যাক্সটন বলেন, আমরা সবজি চুরির বিষয়ে জেনেছি। এখানে কৃষি যন্ত্রপাতি এবং ফলমূলও চুরি যাচ্ছে। যারা এখানে অনেক পরিশ্রম করে সবজি ফলান তাঁদের জন্য ব্যাপারটা কতখানি হতাশাজনক তা আমরা বুঝি। আমরা বিষয়টি দেখছি।
তিনি বলেন, আমার ধারণা, ভুক্তভোগী সবাই আমাদের কাছে অভিযোগ করছেন না। অর্থাৎ বহু ঘটনার কোনো রিপোর্টই পুলিশের কাছে আসছে না।