বিচ্ছেদের ১ মাসের মাথায় সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলমগীর হোসেন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই রাতে আলমগীরকে ফতুল্লা মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর ভাই আসাদুল্লাহ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন।
জানা যায়, ৮ মাস আগে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার কলাগাছিয়ার মোমিন চকিদারের ছেলে আলমগীরের সঙ্গে একই এলাকার ওই মেয়ের বিয়ের হয়। পারিবারিক কলহের জেরে বছর না ঘুরতেই ঘটে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। বিচ্ছেদের ১ মাসের মাথায় ওই ১২ আগস্ট থেকে ওই ছেলে ও মেয়েকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। খোঁজাখুঁজির পরে মেয়ের ভাই আসাদুল্লা র্যাব-৩ কে জানায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ফতুল্লার ইসদাইরের বাচ্চু সরদারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার ও তাঁর সাবেক স্ত্রীকে উদ্ধার করেছে র্যাব। পরে এ ঘটনায় ধর্ষণের মামলা করেন।
বাদী আসাদুল্লাহর অভিযোগ, আট মাস আগে পারিবারিক সম্মতিক্রমে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তাঁর বোনের বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে গত এক মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। দুজনের বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় আলমগীর নানাভাবে তাঁর বোনকে বিরক্ত করে আসছিল।
অভিযোগে আসাদুল্লাহ আরও বলেন, গত ১২ আগস্ট তাঁর বোন অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার কথা বলে গলাচিপা থানার মধ্যে হরিদেবপুর বিদ্যালয়ে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। এর তিন দিন পর গত মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) ফোন করে তাঁর বোন জানায় যে আলমগীর হোসেন কৌশলে প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে ফতুল্লায় নিয়ে এসেছে। ফতুল্লায় আলমগীরের ফুপুর বাড়িতে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগও তোলেন আসাদুল্লাহ।
এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক পলাশ কান্তি জানান, মেয়েটিকে ফুসলিয়ে পটুয়াখালী থেকে ফতুল্লার ইসদাইরে তার সাবেক স্বামীর আত্মীয়ের বাড়িতে এনে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে মেয়েটির পরিবার র্যাবকে জানালে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসদাইর এলাকা থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার ও মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। রাতে আলমগীর হোসেনকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে, আগেই ডিভোর্স হয়ে যাওয়ায় মেয়েটির ভাই ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন।