ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের ‘সহযোগী’ রুবেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বুধবার মধ্যরাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আদালতে পাঠানো হয়। সিআইডি তদন্তভার পাওয়ার পর এই প্রথম কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
আজ বিকেলে রুবেলকে আদালতে হাজির করে সিআইডি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুর কাদির ভূঁঞা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতের পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মো. রুকনুজ্জামান এ তথ্য জানান।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করাসহ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি এবং প্রার্থীদের মনোবলকে দুর্বল করতে রুবেল ও তাঁর সহযোগী, সহায়তাকারী ও অর্থায়নকারী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অজ্ঞাত আসামিদের পরামর্শে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে। ঘটনার পরপর রুবেল আত্মগোপনে চলে যান। তিনি এজাহারনামীয় আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। রুবেলের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
মামলাটি প্রথম তদন্ত করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ডিবি তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। প্রধান আসামি ফয়সালসহ ৬ জন পলাতক রয়েছেন।
ডিবির দেওয়া চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে মামলার বাদী গত ১৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন দাখিল করেন। ওই দিন শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।