ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা-৪ আসনের সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানগুলোতে জমে উঠেছে ভোটের আলাপ। তবে ভোটাররা এখন অনেক সচেতন। তাঁদের অনেকেই হিসাব কষছেন, কাকে ভোট দিলে ভালো থাকা যাবে, দেশ ভালো চলবে। এখনো অনেক ভোটারের শঙ্কা, নির্বাচন আদৌ হবে কি না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শ্যামপুর, কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী থানার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৪ আসন। এই আসনে ওয়ার্ড রয়েছে ৯টি। ওয়ার্ডগুলো হলো—৪৭, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬১। মোট ভোটার ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪০৪ জন। পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৯ এবং মহিলা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮১৫ জন।
ঢাকা-৪ নির্বাচনী এলাকার বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা মোট ৬ জন। তাঁরা হলেন, তানভীর আহমেদ (বিএনপি), মো. আবুল কালাম আজাদ (জনতার দল), মোহাম্মদ জাকির হোসেন (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ), সাহেল আহম্মেদ সোহেল (বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট), সৈয়দ জয়নুল আবেদীন (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) ও সৈয়দ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।
মাসখানেক আগে কয়েকটি দলের মিছিল-সভায় সরগরম হয়ে উঠেছিল গোটা এলাকা। রাস্তাঘাট ছেয়ে গিয়েছিল প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে। তবে তফসিল অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনের প্রচার নিষিদ্ধ থাকায় বর্তমানে তেমন উত্তাপ নেই। প্রার্থীরা নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক করছেন, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন। ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে।
জয়ের ব্যাপারে আল্লাহ ও ভোটারদের ওপর ভরসা করেন প্রার্থী তানভীর আহমেদ। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি ঢাকা-৪ এর বাসিন্দা হিসেবে এলাকাবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম, আছি ও থাকব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ, মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করব। গ্যাস ও সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার, কবরস্থান ও ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করব।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে তিনি নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কারণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে নির্বাচন কমিশনকে এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে দেখছেন না। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, জলাবদ্ধতা নিরসন, গ্যাসের সমস্যা সমাধান, কমিউনিটি সেন্টার ও খেলার মাঠ নির্মাণসহ সব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী সাহেল আহম্মেদ সোহেল বলেন, ‘আমি নির্বাচন করে গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণের অনেক সাড়া পেয়েছি। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার সব সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখব।’ তিনিও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান।
এ আসনের মোহাম্মদবাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন টুকু বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ অনেকটা শান্ত রয়েছে। আমি চাই স্বাধীনতার পক্ষের দল ক্ষমতায় আসুক।’
জুরাইন এলাকার বয়স্ক ভোটার রহমত আলী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে সব দলের শাসন দেখেছি। তবে এবার জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার নিয়ত করেছি।’
দনিয়া এলাকার বাসিন্দা শিউলি আক্তার বলেন, সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় এবার নির্বাচনে তেমন আমেজ নেই। তবে যথাসময়ে নির্বাচন হওয়া উচিত।
চায়ের দোকানি রমজান বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। যে-ই ক্ষমতায় আসুক আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। তাই এবার ভোট দেব না।’