গাজীপুরের শ্রীপুরে রেললাইনের পাত চুরির সময় স্থানীয় জেলেদের হাতে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন পাঁচ ব্যক্তি। আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইনের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের গোলাঘাট বাজারের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে মোস্তাক (২২), একই ইউনিয়নের বিলাল হোসেনের ছেলে সাহেদ (১৯), গাজীপুর মহানগরীর হানিফ মিয়ার ছেলে হৃদয় (১৯), নজরুল ইসলামের ছেলে নয়ন মিয়া (২৮) ও বিল্লাল হোসেনের ছেলে সুজন মিয়া (২২)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেললাইনের পাশে রাখা পাত একটি পিকআপ ভ্যানে তোলার সময় মৎস্য খামারে মাছ শিকার করা জেলেরা তা দেখে ফেলেন। এ সময় তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে রেললাইনের পাত ও পিকআপসহ পাঁচজনকে আটক করে হাত-পা বেঁধে গণধোলাই দিয়ে রেলওয়ে পুলিশে খবর দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা তোতা মিয়া বলেন, ‘আমি সকালে মসজিদে আজান দিতে এসে দেখি রেললাইনের পাশে পুঁতে রাখা লোহার পাতগুলো ওরা ওঠাচ্ছে। এ সময় আমি রেললাইনের পাশের একটি মৎস্য খামারে থাকা কয়েকজন জেলেকে ডেকে আনি। এরপর ওদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে ওরা রেলওয়ের কর্মচারী বলে দাবি করে। এ সময় আমার সন্দেহ হয়। এরপর আমাদের ডাকে অনেক লোক জড়ো হয়।’
পরে ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মারুফ মোক্তার। তখন আটক ব্যক্তিরা তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে।
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুল্লাহ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছি। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বিস্তারিত বলতে পারব। রেললাইনের পাশে মাটিতে পুঁতে রাখা পাঁচটি লম্বা পাত ওরা গাড়িতে ভর্তি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করেন বলে শুনেছি।’