লাতিন আমেরিকার স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের অপহরণের নিন্দা জানিয়ে মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
সাংস্কৃতিক সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা আজ শনিবার সন্ধ্যায় ‘সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানার নিয়ে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড় থেকে মিছিল শুরু করেন। এ সময় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী স্লোগান দেন তাঁরা। মিছিলটি পরে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
উদীচী ছাড়াও এ কর্মসূচিতে অংশ নেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, ক্ষেতমজুর সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভেনেজুয়েলায় অবিলম্বে হামলা বন্ধ, প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরত পাঠানো এবং আগ্রাসনের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানানো হয়।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর একাংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এক বিবৃতিতে বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসেও মধ্যযুগীয় কায়দায় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় আজ ভোরে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এতে শহরের দক্ষিণ অংশে একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটকের তথ্য ফলাও করে ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, বড় আকারের হামলার পর তাঁদের আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মাদক পাচারের অপ্রমাণিত অভিযোগ তুলে বেশ কিছুদিন ধরে ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় দেশটির চারপাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতেও দেখা যায়। একটি স্বাধীন, সার্বভৌম দেশের ওপর এ ধরনের আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইরান, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে এভাবেই আগ্রাসন চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি নিঃসন্দেহে সব ধরনের আন্তর্জাতিক আইনের নীতি ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী। মূলত ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সমাজতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটির প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখানো শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের অন্যতম কারণ। নিজেদের তেল খাতকে ভেনেজুয়েলা রাষ্ট্রীয়করণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই সেই সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যে একের পর এক প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র; যার সবশেষ হলো প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপহরণ।