হোম > সারা দেশ > ঢাকা

ডাকসুর কনসার্টে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ ও ‘ইউরেনিয়াম’ স্লোগান নিয়ে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

শনিবার কনসার্টে দুটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। ছবি: স্ক্রিনশট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভূমিকা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন এবং কনসার্টে ওঠা বির্তকিত স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ‘কুয়াশার গান’ শিরোনামে একটি বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সঙ্গে এই কনসার্টের সহ–আয়োজক ছিল ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামক একটি প্ল্যাটফর্ম। অভিযোগ উঠেছে, অনুষ্ঠান চলাকালীন মাঠের ভেতরে স্টল বসিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে সিগারেট বিলি করা হয়েছে। ‘এক্স ফোর্স’ নামক একটি স্পনসর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিতর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এই ঘটনাটি প্রচলিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩)’ এর সরাসরি লঙ্ঘন। আইনের ৫ (খ) ধারা অনুযায়ী, তামাকজাত দ্রব্য কিনতে প্রলুব্ধ করতে বিনা মূল্যে বিতরণ কিংবা স্বল্প মূল্যে বিক্রি নিষিদ্ধ। এছাড়া ৫ (গ) ধারা অনুযায়ী, তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে কোনো অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন করাও একটি অপরাধ। এই ধারা লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

একই আইনের ৬ (খ) ধারা অনুসারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি বা বিপণন করলে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘মাদক উৎসাহিতকরণ’ এবং ‘আইনের অবমাননা’ হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

এই ঘটনার পর থেকেই ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে। ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের দিকেই মূলত অভিযোগের তির ছুড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

স্লোগান বিতর্ক ও ‘ইউরেনিয়াম’ ধ্বনি

সিগারেট বিতরণের পাশাপাশি কনসার্টে ওঠা স্লোগান নিয়েও বিতর্ক উঠেছে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ডাকসু নেতা মোসাদ্দিক আলী যখন ‘কোটা না মেধা’ বা ‘গোলামি না সংস্কার’ এর মতো স্লোগান দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে তাঁকে ব্যঙ্গ করে পাল্টা স্লোগান শুরু হয়। মোসাদ্দিক ‘তুমি কে, আমি কে’ স্লোগান দিলে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে চিৎকার করে ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’ বলে উত্তর দেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ডাকসু নেতা মোসাদ্দেক তাঁর বক্তব্যে বলেন, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পাহাড়ে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা দিয়ে ভারতকে অসংখ্যবার ‘উড়িয়ে দেওয়া’ সম্ভব। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ট্রলের শিকার হয়েছেন তিনি।

ডাকসু নেতার দুঃখ প্রকাশ

তীব্র সমালোচনার মুখে মোসাদ্দিক আলী ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, কনসার্ট আয়োজনে ডাকসুর পক্ষে তিনি একা যুক্ত থাকলেও স্পনসরের চুক্তি বা শর্তের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘এক্স ফোর্স প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল তারা একটি “স্মোকিং জোন” করবে। আমি গেস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বুঝতে পারিনি তারা ভেতরে ফ্রিতে সিগারেট দেবে। বিষয়টি যখন জানতে পেরেছি, তখন আর কিছু করার সুযোগ ছিল না।’ সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

দুটি বিষয়েরই সমালোচনা করে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ডাকসুর আয়োজনে সিগারেট এর বিতরণ যেমন কাম্য না তেমন গোলামী না আজাদী স্লোগানের বিপরীতে গোলামী করতে চাওয়াও কাম্য না। একটা দিয়ে আরেকটারে কাউন্টার করে নিজেদের ভুল জাস্টিফাই করা বন্ধ করেন উভয় পক্ষ।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীর ছিনতাই হওয়া অস্ত্র উদ্ধার

মসজিদভিত্তিক শিক্ষা প্রকল্পের কর্মকর্তা রাশেদুলের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে পাঁচ মাসে মিলল ৫ লাশ, শনাক্ত হয়নি, গ্রেপ্তারও নেই

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম, ফোনে আবার হত্যার হুমকি

রাজধানীর গুলশানে ঘর থেকে তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

নীতিসহায়তা না পেলে ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ঝুঁকিতে পড়বে

কেরানীগঞ্জে রাতের আঁধারে মাটি লুট, গ্রেপ্তার ১

মৌখিক পরীক্ষার দেড় মাস পরও ফল প্রকাশ হয়নি, হতাশায় পরীক্ষার্থীরা

উত্তরায় মাইক্রোবাসে এসে প্রাডো গাড়িসহ এক ব্যক্তিকে অপহরণ, নিরাপত্তাকর্মীর অস্ত্র লুট

সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তায় ঐক্যের ডাক