রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে আগুন লাগা দোকানে লুটের অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ স্থানীয় বিহারি ক্যাম্প ও আশপাশের লোকজন পুড়ে যাওয়া দোকানের মালামাল লুট করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কেটটিতে আগুনে কয়েক শ দোকান পুড়ে যায়। গতকাল ভোর ৩টা ৪১ মিনিটে সেখানে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৭ ইউনিটের চেষ্টায় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আজ শুক্রবার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায় কৃষি মার্কেটের নতুন কাঁচাবাজারের দোকানগুলোতে বেঁচে যাওয়া পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেকেই সহযোগিতার নামে লুট করেছেন। আবার অনেকে দোকান থেকে বের করে রাখা মাল নিয়ে গেছেন।
কৃষি মার্কেটের নিউ কাঁচা বাজারের আলী স্টোরের মালিক আবু তাহের আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আগুন নেভার পরে দেখি দোকানের বেশির ভাগ মালামাল আগুন ও পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। গতকাল রাতে যেসব মাল পেয়েছি সেগুলো গুছিয়ে রেখে গেছি। আজ সকালে এসে দেখি বেশির ভাগ মালই চুরি হয়ে গেছে। কে কিভাবে নিয়ে গেছে বলতে পারছি না। এগুলো যেন এখন লুটের মাল। কাল দিন থাকতে যা পেরেছি করেছি। অন্ধকারে তো দোকানে ঢোকা যায় না। কিন্তু সকালে আসার আগেই সব নিয়ে গেছে। এমনকি পুড়ে যাওয়া তার, লোহার এঙ্গেলসহ সব নিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক দোকান থেকে সরিয়ে দিলে আরেক দোকানে যাচ্ছে। তাদের কেউ ফেরানোর নেই। বস্তায় ভরে সব নিয়ে যায়। আমরা তো নিঃস্ব হয়ে গেছি। কিন্তু এরা এখন আবার পোড়া ঘায়ে আঘাত দিচ্ছে।’
চাঁদপুর স্টোরের মালিক শারমিন আক্তার বলেন, ‘খ–১৯ ও খ–৩০ নম্বর দোকান আমার। তিন বোন মিলে এই দোকান চালাতাম। আগুনে সব পুড়ে গেছে। এরপর ছাইয়ের নিচে যা পেয়েছি সেগুলো গুছিয়ে এক পাশে রেখেছি। সাটার লাগানো ছিল। কিন্তু সকালে এসে দেখি কিছুই নেই। সাটার খুলে সব নিয়ে গেছে। সাবানের গুঁড়া, চিনির বস্তাসহ বিভিন্ন মালামাল রাখা ছিল।’
আজ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কৃষি মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ ও ছোট বড় ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন দোকানের ছাই সরিয়ে মালামাল নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ লোহার অ্যাঙ্গেল, পাইপ নিয়ে যাচ্ছেন। মুদি দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে। এতে বিরক্ত ব্যবসায়ীরা। তাঁদের সরিয়ে দিলেও কেউ সরছেন না। এদের বেশির ভাগই পাশের বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দা।
মালামাল লুটের বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আজিজুল হক বলেন, ‘গতকাল আমাদের ডিসি স্যারসহ সবাই উপস্থিত ছিলাম। তখনো অনেক ব্যবসায় নিজেদের মালামাল বলে নিয়ে যেতে দেখেছি। এখন এটা কার মাল সেটি নির্ধারণ করার তো কেউ নেই। প্রতিটি গেটে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি থাকা উচিত। তবে আমরা মার্কেটের নিরাপত্তায় কাজ করছি। সব গেটে আমাদের পুলিশ সদস্যরা আছে। এরপরও কেউ কোনো অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নিব।’
এ দিকে আজ আগুনের হাত থেকে বেঁচে পাওয়া চাল, ডাল, আলু, লবণ, আটা, চিনিসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। আগুনের কারণে ধোঁয়ার গন্ধ ও ভেজা এ সব পণ্য নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করছেন তাঁরা। সাধারণ সময়ের ৮০ টাকার চাল এখন ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ বস্তা বিক্রি করছেন মাত্র ৭০০ থেকে হাজার টাকায়। আর এ সব পণ্য কম দামে কেনার আশায় অনেকেই ভিড় করছেন। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।