চট্টগ্রামে এক সপ্তাহ আগে আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ১২৫ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনার আগে ওই বাসায় পথশিশুদের দিয়ে রেকি করেছিল চোর চক্রটি। পরে সুযোগ বুঝে গ্রিল কেটে ও লক খোলার সরঞ্জাম ব্যবহার করে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল চুরি করা হয়। চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
আজ শনিবার দুপুরে নগরের মোমিন রোডে নিজ কার্যালয়ে এসব তথ্য জানিয়ে প্রেস বিফ্রিং করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
গত ২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে চকবাজারের আমীরবাগ আবাসিক এলাকায় এসআর ভবনের একটি বাসায় এই চুরি হয়। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় মামলা হয়। গত শুক্রবার সদরঘাট থানায় ভিন্ন আরেকটি চুরির মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর সেখানে এক আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ চকবাজার থানার এই চুরির ঘটনারও রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান, চারটি ধারালো ছোড়া, দুটি তালা কাটার যন্ত্র ও একটি রেঞ্জ। এ সময় এক আসামির তথ্যমতে, ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে মাটির নিচে লুকানো ৫১ ভরি ১২ আনার বেশি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ বলেছে, উদ্ধারকৃত স্বর্ণগুলো এক সপ্তাহ আগে চকবাজার আমিরবাগ আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে চুরি করা হয়। দুটি চুরির ঘটনায় একই চক্রের লোকজন জড়িত। তাঁরা চট্টগ্রামের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে চুরি করে থাকে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-নড়াইল সদর জেলার নোয়াপাড়া এলাকার মো. আরিফ হোসেন মেহেদী (২৬), কক্সবাজারের টেকনাফ সদর থানার মো. শরীফ (২০), কিশোরগঞ্জ জেলার কাটিয়াদি থানার মেহেদী হাসান রুবেল (২৩), চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাটিখাইন গ্রামের সাইদুল ইসলাম রিগ্যান (২২), কুমিল্লার নাঙলকোর্ট থানার হান্নান হোসেন (২৩) ও চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার সুপারিওয়ালা এলাকার রিয়াদ হোসেন (১৯)।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার নোবেল চাকমা, সহকারী কমিশনার অতনু চক্রবর্তী, সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস জাহান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নগরে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী সরোয়ার আলম খানের বাসায় গ্রিল কেটে আনুমানিক দেড় কোটি মূল্যের স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটে। চকবাজারের আমীরবাগ আবাসিক এলাকায় এসআর ভবনে এ চুরির ঘটনা ঘটে।