চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর এলাকায় অবৈধভাবে তেল মজুতের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। তবে এ সময় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
সলিমপুরের সিটি আবাসিক গেটসংলগ্ন এলাকায় আজ সোমবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদারকি করেন। এ সময় গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র বলেছে, উদ্ধার করা তেল পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সূত্র আরও বলেছে, একটি অসাধু চক্র সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে পরিবহনের সময় জ্বালানি তেল অপসারণ করে গোপনে মজুত করছিল বলে খবর পাওয়া যায়। সেই খবরের ভিত্তিতেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সাংবাদিকদের বলেন, ‘২৭ মার্চ থেকে অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। সেদিন ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছিল। আজ সলিমপুরে প্রায় ২৫ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে।’ অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মানুষকে জিম্মি করে ব্যবসা করছে, তারা ব্যবসায়ী নয়, অপরাধী। তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।’
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। এ পর্যন্ত প্রায় ১০টি জাহাজ এসেছে এবং আজ সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ রওনা হয়েছে, যাতে প্রায় ৩০০ টন ডিজেল রয়েছে। সেটি আগামীকাল চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করবে। গত দুই দিনেও আরও দুটি জাহাজ থেকে তেল খালাস হয়েছে।’
জেলা প্রশাসন জানায়, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ৯৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ১৮ থেকে ২০টি মামলা করা হয়েছে।