ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। একই সঙ্গে সম্প্রতি তিন শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার প্রত্যাখ্যান করেছে দলটি।
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে নগরের ষোলোশহর বিপ্লবী উদ্যানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা এই দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক বলেন, চসিক মেয়র পদটি প্রজাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। সেই পদে থেকে বর্তমান মেয়র বিএনপি প্রার্থীদের বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় বিএনপির সমাবেশে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু থাকে না। একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি মেয়র পদে বহাল থাকলে আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হবে এবং জাতীয় নির্বাচন ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হবে।
এরফানুল হক আরও বলেন, যেহেতু ২৭ জানুয়ারি মেয়র পদে তাঁর মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে এবং ২২ তারিখ থেকে সারা দেশে প্রার্থীদের প্রচার শুরু হচ্ছে; সুতরাং, এই বাস্তবতায় চট্টগ্রামের নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে হলে অবিলম্বে মেয়র পদ থেকে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘সম্প্রতি সিএমপি যে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, সেখানে আপনারা দেখবেন, তালিকায় ৩৩২ জন সন্ত্রাসীর নাম দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, পুলিশ যদি জানে এলাকায় ৩৩২ জন সন্ত্রাসী আছে, সে ক্ষেত্রে পুলিশের উচিত বিভিন্ন মাধ্যমে সেসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা। তা যদি না পারে, তাদের ছবি টানিয়ে পুরস্কার ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া। এসব না করে কীভাবে একটা লিস্ট টানিয়ে দিয়ে তাদের শহরের মধ্যে নিষিদ্ধ করা হলো?’
পুলিশের উদ্দেশে আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘আপনারা তো এই কাজ করতে পারেন না। আপনারা হয় ধরবেন, না হলে ছেড়ে দেবেন। একজন ব্যক্তি বা বিশেষ কোনো ব্যক্তিবর্গ যদি অপরাধী হন, তিনি বা তাঁরা জেলে থাকবেন, অপরাধী না হলে ঘুরবেন, বসবাস করবেন। মানুষের তো চলাফেরার স্বাধীনতা রয়েছে। এই ধরনের পদক্ষেপ সন্ত্রাসীদের সতর্ক করে দেওয়ার মতো।’
এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘যাঁরা জুলাই আন্দোলনে সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাঁদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো সতর্ক করে দেওয়া যে—আপনারা চট্টগ্রাম শহরে আসবেন না। আপনারা এলে গ্রেপ্তার করতে হবে। এই ধরনের একটা অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করলাম। অবিলম্বে এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে আমরা আন্দোলনে যাব।’
চসিক মেয়র প্রসঙ্গে আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘শাহাদাত হোসেন ভাই দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আমরা তাঁকে সম্মান করি। আদালতের রায়ে তিনি মেয়র হয়েছেন। আমরা চাই, ভবিষ্যতেও শাহাদাত ভাই মেয়র হোক। তবে আপনারা দেখবেন, বর্তমানে সরকারব্যবস্থায় কোনো রাজনৈতিক সরকার নেই, এটা অরাজনৈতিক সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার।’
আরিফ মঈনুদ্দিন আরও বলেন, ‘অরাজনৈতিক সরকারের কারণে আমাদের ছাত্রদের মধ্যে যে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছিলেন, তাঁরা নির্বাচন না করা সত্ত্বেও উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচন যাতে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়, এই কারণে তাঁরা পদ থেকে সরে দাঁড়ান। একইভাবে মেয়র শাহাদাতের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে, একই সঙ্গে দাবিও থাকবে, আপনি অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি মেয়র পদে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই মেয়াদের আগেই আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচন ঘিরে যেভাবে থাকা দরকার ছিল, বর্তমানে সেটা সন্তোষজনক নয় বলে জানান আরিফ মঈনুদ্দিন।
এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘রাস্তাঘাটে ঘুরলে আপনারা এখন ছাত্রলীগ দেখবেন। তারা ওপেন (প্রকাশ্য) হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে কোনো ভয়ভীতি নেই। এমনকি এজাহারভুক্ত আসামিরাও রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরা করছে।’