ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক নারীর সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এনে তাঁকে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণের দাবি তুলেছে এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার সকালে সরাইল উপজেলার পশ্চিম কুট্টাপাড়া এলাকায় এই দাবিতে ঝাড়ুমিছিল করেছেন স্থানীয় নারীরা।
ঝাড়ুমিছিলের নেতৃত্ব দেন সরাইল উপজেলা শ্রমিক লীগের সদস্যসচিব শেখ আবুল কালাম। মিছিলটি গ্রামের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলকারীরা নৈতিক স্খলনের অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে রফিক উদ্দিন ঠাকুরের অপসারণ এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এ ছাড়া ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই যুবকের অবিলম্বে মুক্তিও দাবি করেন তাঁরা।
জানা যায়, এক নারীর সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের একটি আপত্তিকর ভিডিও গত সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ৩ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন ঠাকুরের সঙ্গে এক নারীকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। চেয়ারম্যানের এই কর্মকাণ্ডে বিব্রত হন স্থানীয়রা। ফেসবুকে ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে সাইফুল ইসলাম ঠাকুরের দায়ের করা মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক শেখ আরফান আহমেদ ও কুট্টাপাড়া এলাকার তরিকুল ইসলাম নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, চেয়ারম্যান শুরু থেকে দাবি করছিলেন এই ভিডিও সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে তাঁর মাথা কেটে লাগিয়ে এই ভিডিও তৈরি হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পর অবশ্য তিনি দাবি করেন সেই নারী তাঁর বিবাহিত স্ত্রী। একটি কাবিননামাও তিনি সরাইল থানার পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেছেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা আমাদের দিয়েছেন। গ্রেপ্তার আসামিরা মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে সংরক্ষণ, প্রচার ও সরবরাহ করায় পর্নোগ্রাফি আইনের ৮ ধারায় অপরাধ করেছেন। তাঁদের মোবাইল ফোনে এসব আলামত থাকায় তা জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁদের বিকেলে কারাগারে পাঠান।’