কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার গৃহিণী জামিলা বেগমকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার সকালে এ আদেশ দেন কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ মো. হেলাল উদ্দিন। এ মামলায় অপর এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মেঘনা উপজেলার শিকিরগাঁও এলাকার সুমন, রাকিব ও মানিকারচর এলাকার তাছির। রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত রাকিব, সুমন ও খালাসপ্রাপ্ত টিটু এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের মধ্যে তাছির পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ২০ জুন সন্ধ্যায় মেঘনা উপজেলার মানিকারচর এলাকার গৃহিণী জামিলা বেগম নিখোঁজ হন। এর চার দিন পর বাড়িসংলগ্ন একটি ফসলি জমি থেকে জামিলার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২৫ জুন জামিলার স্বামী ভ্যানচালক আবদুল হাকিম বাদী হয়ে মেঘনা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তপূর্বক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ সকালে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং টিটু নামে একজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বিচারক। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিম বলেন, জামিলা বেগমের কানের দুল ও টাকা ছিনতাইয়ের জন্য তাঁকে হত্যা করা হয়। রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।