ঢাকা: ধর্ষণ মামলায় অভিযোগকারীকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার সুযোগসংবলিত বিধানটি অবশেষে আইন থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনেই সংশোধিত আইন আসতে পারে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেট পাসের প্রক্রিয়ার সময় বিরোধী দলের সাংসদদের বিভিন্ন ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। জাতীয় পার্টির সাংসদ পীর ফজলুর রহমানসহ একাধিক সাংসদ সাক্ষ্য আইনটিকে যুগোপযোগী করার প্রস্তাব তোলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধরায়, এখানে রেইপ কেইসে ভিকটিমের চরিত্র নিয়ে কথা বলার একটা সাব সেকশন আছে। সেটাকেও পরিবর্তন করার জন্য আমি নির্দেশনা পেয়েছি। সেটাও পরিবর্তন হচ্ছে। আমার মনে হয়, পূর্ণাঙ্গভাবে সেপ্টেম্বর মাসে যে সংসদ অধিবেশন হবে, সেখানে আইন নিয়ে আসতে পারব।’
সাক্ষ্য আইনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যুক্ত করা হবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী সংসদে আরও বলেন, সাক্ষ্য আইনের কথা বলা হয়েছে। এখানে একটু বলে রাখি– এভিডেন্স অ্যাক্ট যুগোপযোগী করার জন্য কাজ চলছে। আমার মনে হয়, আগামী সংসদে আমরা এটা আনতে পারব; বিশেষ করে এটা হবে ভার্চুয়াল।
সময়োপযোগী হওয়ার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইনের কিছু সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সাক্ষ্য আইনে ভার্চুয়ালি ট্রায়াল করার কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী কাশিমপুর ও কেরানীগঞ্জ জেলে আদালত যাতে ওখান থেকে ভার্চুয়াল করতে পারে সে জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এখন আইনের পরিবর্তন করে এই সাক্ষ্য আইনে পরিবর্তন করার কাজ করছি।’
সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর ১৫৫ (৪) ধারা অনুসারে, ‘কোনো ব্যক্তি যখন বলাৎকার বা শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগে ফৌজদারিতে সোপর্দ হন, তখন দেখানো যেতে পারে যে, অভিযোগকারিণী সাধারণভাবে দুশ্চরিত্রা।’ অর্থাৎ ভুক্তভোগী অভিযোগকারীকেই তাঁর চরিত্রের প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয় এই আইনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ধর্ষণের অভিযোগে সাধারণত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। গত বছরের নভেম্বরে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে সরকার। সেখানে ‘ধর্ষিতা’ শব্দটির স্থলে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দ দুটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়।
সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ (৪) ধারা সংশোধনের বিষয়ে অধিকারকর্মীদের দাবি দীর্ঘদিনের। অবশেষে সেটিও সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
করোনাকালে ভার্চুয়াল আদালত চালুর প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে গত বছর ২৫ মার্চ থেকে মে পর্যন্ত আদালত বন্ধ ছিল। যে কারণে অনেক মামলা জমে যায়। যার কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলা পরিচালনার বিধান করা হয়। এ কারণে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩০টি মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। এই ভার্চুয়াল কোর্ট না হলে আজকে ৩৯ লাখ মামলার জায়গায় আমাদের ৪১ লাখ মামলা পেন্ডিং থাকার কথা শুনতে হতো।’