১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে করা অপরাধের জন্য পাকিস্তানের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।
তাঁদের (পাকিস্তান) প্রকাশ্যে মাফ চাওয়া উচিত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
চলতি জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ডি-৮ জোটের বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হীনা রব্বানী খার এর ঢাকা সফরের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
‘তারা আমাকেও পিটিয়েছে। এটা কী করে ভুলি, ’ বলেন আবদুল মোমেন।
নিজের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে আবদুল মোমেন বলেন, মালয়েশিয়ায় নতুন বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া সপ্তাহ দু-এক পর শুরু হতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বললেন, তাঁদের অনেক কর্মী দরকার। বাংলাদেশি কর্মী চান। বললাম আমরা এক পায়ে দাঁড়িয়ে। দিতে চাই। তবে দুই-একটি শর্তে। শ্রমিক যাঁরা আসবেন, তাঁরা যেন শোষণের শিকার না হয়। বৈষম্যের শিকার না হয়। তাঁদের কল্যাণের দিকটি যাতে দেখা হয়।
সেদেশের প্রধানমন্ত্রী দেওয়া নিশ্চয়তার উদ্ধৃতি দিয়ে মোমেন জানান, মালয়েশিয়া একটি আইন করেছে। এই আইন অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশিই নয়, যে কোন দেশের কর্মী সেখানে কাজ করবে, তাঁদের প্রতি কোনোরকমে বৈষম্য করা হবে না। ভালো আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছিলেন কবে নাগাদ বাংলাদেশ থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হতে পারে। মোমেন তাঁকে জানিয়েছেন, সপ্তাহ দু-এক পর বাংলাদেশ থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হতে পারে।
মালয়েশিয়ার অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অনেকে অবৈধ হয়ে যাচ্ছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ অভিযোগের জবাবে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন তাঁরা মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে তা বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
সেদেশে অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা কয়েক লাখ হতে পারে বলে তিনি জানান।