রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানীবহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লতিফ মিয়াকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বার্থা পুকুরচালা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে তাঁকে গুলি করা হয়। রাতেই ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। আগামী ২৩ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে হত্যা করেছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহত লতিফ মিয়ার স্ত্রী সেফালি আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার সময় ফোন আসে তাঁর স্বামী এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। এটা প্রতিপক্ষের লোকজন সহ্য করতে পারেনি। রাত ১২টার দিকে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বানীবহ বাজার থেকে আধা কিলোমিটার দূরে বার্থা পুকুরচালা। সেখানে শত শত মানুষ। রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যে স্থানে লতিফ মিয়াকে গুলি করা হয়, সেখানে একটি লাঠিতে লাল কাপড় বেঁধে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তিন শ মিটার দূরে লতিফ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শতাধিক মানুষের ভিড়। স্বজনেরা কান্নাকাটি করছেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনী প্রচার শেষ করে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বানীবহ বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন লতিফ মিয়া। পুকুরচালা এলাকায় কিছু দুর্বৃত্ত তাঁর গতি রোধ করে। পরে তার ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ও পরিবারের লোকজন গুলির শব্দ পেয়ে এগিয়ে গিয়ে তাঁকে রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মানিকগঞ্জে মারা যান।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন জানান, নির্বাচন ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনার পরপরই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।