ঢাকা: ইসমাইল হোসেন সুমন ওরফে কয়েন সুমন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স করে ২০১৩ সালে বাচ্চাদের খেলনা ও কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। এরপর বেসিক বিজ মার্কেটিং নামের এক প্রতিষ্ঠান করেন। আর এর আড়ালেই চালিয়ে যাচ্ছিলেন অবৈধ বিট কয়েন ব্যাবসা। অনলাইনে পেতেছিলেন প্রতারণার ফাঁদ।
আজ সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটায় কারওয়ান বাজার র্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটেলিয়ানের (র্যাব) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন র্যাব সদর দফতরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকার বেসিক বিজ মার্কেটিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১-এর একটি দল। সেখান থেকে বাংলাদেশে অবৈধ বিট কয়েন ব্যবসার মূলহোতা ও অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগে ইসমাইল হোসেন সুমন ওরফে কয়েন সুমনসহ ১২ জনকে আটক করে দলটি।
এঘটনায় অন্য আটককৃতরা হলেন- আবুল বাশার রুবেল (২৮), আরমান পিয়াস (৩১), রায়হান আলম সিদ্দিকি (২৮), মো. জোবায়ের (১৮), মেহেদী হাসান রাহাত (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), রাকিবুল হাসান (২৩), রাকিবুল ইসলাম (২২), সোলাইমান ইসলাম (২১), মো. জাকারিয়া (১৮), আরাফাত হোসেন (২২)। তাঁরা সুমনের অবৈধ বিটকয়েন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
র্যাবের দাবি, কয়েন সুমনের রয়েছে একাধিক ভার্চ্যুয়াল ওয়ালেট। যেখানে মজুদ রয়েছে বিটকয়েনে অর্জিত লাখ লাখ ডলার। শুধু তাই নয়, বিটকয়েন ব্যবসার মাধ্যমে তিনি গড়েছেন ফ্ল্যাট, প্লট, সুপারশপসহ নানা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে বিটকয়েন নিষিদ্ধ। তবে বেশ কিছু দেশেই বিটকয়েন বৈধ। সম্প্রতি ভারতে এটা বৈধ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরেও বৈধ। এসব দেশের সঙ্গে লেনদেন রয়েছে বা দেশীয় বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক জুয়ারিদের কাছে বিটকয়েন লেনদেন ও বিক্রি করতেন সুমন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।